
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, “নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে হতাশ হওয়ার চেয়ে দেশে যে হারে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে, তা নিয়েই আতঙ্কিত হওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “গণতন্ত্র একটি দিনের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ।” রাজধানীতে মঙ্গলবার আয়োজিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ড. মাসুদ আরও বলেন, “যারা স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করে গণতন্ত্র উদ্ধারের কথা বলে, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রের চেতনা ও মূল্যবোধকে অবমাননা করছে। যদি তারা ক্ষমতায় আসে, আবারও দুর্নীতি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে দেশ অশান্ত হবে—এই শঙ্কায় জনগণ ইতোমধ্যেই আতঙ্কিত।” জামায়াতের শান্তিপূর্ণ কর্মপন্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে রাস্তা বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি করিনি। আমরা আইনি পথেই লড়েছি, এবং ন্যায়বিচার পেয়েছি।” তিনি দাবি করেন, “মাওলানা আজহারুল ইসলামের মামলায় আপিল বিভাগের রায় প্রমাণ করেছে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ন্যায়বিচারের ব্যত্যয় ঘটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।” সাবেক প্রধান বিচারপতি এস. কে. সিনহার লেখা বইয়ের বরাত দিয়ে ড. মাসুদ বলেন, “তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, জামায়াতের কোনো নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছিল।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে সর্বাগ্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা হবে। বলেন, “ন্যায়বিচার ছাড়া একটি সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. রিপন শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এছাড়াও ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।