(তৌহিদ, মাগুরা) মাগুরাতে বিভিন্ন খাবার তৈরির কারখানাগুলোতে কর্মচারীরা টয়লেট থেকে বেরিয়ে হাত পরিস্কার না করেই তৈরি করছে বিভিন্ন মজাার খাবার। মঙ্গলবার ২৭ মে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার শহরস্থ পৌর এলাকার হাসপাতাল পাড়া ও অন্যান্য এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বেলা ১১.৩০টা থেকে ২.০০ টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে শহরের হাসপাতাল পাড়া মেসার্স ওয়ান্ডার ফুড নামক প্রতিষ্ঠানের কারখানায় তদারকিতে দেখা যায় নানা ধরনের অনিয়ম। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাদানে তৈরি হচ্ছে খাবার। ফ্রিজ, র্যাক ও খাবার তৈরি স্থান হতে এসমস্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাদান পাওয়া যায়। অভিযান পরিচালনা কালে দেকা যায় যে,যত্রতত্র কারখানার নোংরা মেঝেতে অস্বাস্থ্যকর ভাবে খাদ্যদ্রব্য খোলা রাখা হয়েছে, কর্মচারীদের নাই কোন স্বাস্থ্যবিধি। ব্যবহৃত টয়লেটে নাই কোন সাবান বা হ্যান্ডওয়াস। কর্মচারীরা টয়লেট শেষে হাত ভালোভাবে না ধুয়েই নোংরা হাতে তৈরি করছে বিভিন্ন বেকারি পণ্য ও খাবার। যথাযথভাবে মানা হচ্ছেনা পণ্যের মোড়কীকরণ বিধি, মেয়াদ, মুল্য ইত্যাদি। এছাড়া ২৬ তারিখ রাতে তৈরিকৃত পণ্যের উৎপাদনের তারিখ ২দিন বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ২৮ মে। কেকের মধ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে পেপার, যা মানব দেহের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ণ। শুধুমাত্র বিস্কুটে তাদের বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নেয়া অথচ বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে কেক, পাউরুটিসহ তৈরিকৃত সমস্ত পণ্যে, যা ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এসমস্ত অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো: শামিম হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭, ৪৩ ও ৪৪ ধারায় ৫০,০০০(পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে মত প্রকাশ করেন মাগুরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ