
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ব্যাপক উদারতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বিএমএ মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “ইসলামপন্থীদের ঐক্য ভাবনায় করণীয়” শীর্ষক এই সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমীরে জামায়াত ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন—আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের এক ব্যালেটে আসতে যতটুকু ছাড় দরকার, জামায়াতে ইসলামী তা দিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “আলেম-ওলামাদের উপর আওয়ামী লীগ যে মাত্রায় জুলুম করেছে, তা নজিরবিহীন। ইসলামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামীতে কেউ আলেমদের উপর নির্যাতনের সাহস দেখাতে পারবে না। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আলেমদের অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।” সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে ইসলামপন্থীরা সামনে থেকে জীবন দিয়েছেন। অথচ ইতিহাস বিকৃত করে অনেক সময় আন্দোলনের ফসল ভিন্নমতের দলগুলো কুড়িয়ে নেয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও একই ঘটনা ঘটেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “যাত্রাবাড়ীর এক মাদ্রাসায় ১৭ জন ছাত্র শহীদ হলেও, একটি দলের ছাত্রনেতা পুরো কৃতিত্ব নিজে নিয়ে নেন। সারাদেশে যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই আলেম ও ইসলামপন্থী ছিলেন। জনগণ এখন বুঝে গেছে, ইসলামপন্থীদের হাতেই নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।” সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী। তিনি বলেন, “ইসলামপন্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। ইসলাম বিরোধীরা একাধিক ন্যারেটিভ চালিয়ে ইসলামপন্থীদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে। আমরা সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব।” সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ’র নায়েবে আমীর আহম্মদ আলী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ বাসার, এনসিপি’র মাওলানা সানা উল্লাহ খানসহ দেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের মাধ্যমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।










