
অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্প বিক্রি, অস্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ব্যয়, তহবিল তছরুপ এবং নানাবিধ আর্থিক অনিয়ম—এসব অভিযোগে যখন এনআরবি ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়, তখনও প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহ্ জামাল হাওলাদার বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র তদন্তেই এসব অনিয়ম প্রমাণিত হলেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।২০২৪ সালের ১০ জুন আইডিআরএ’র পরিচালক আহম্মদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সিইও হিসেবে শাহ জামালের পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব সরাসরি নামঞ্জুর করা হয়। সেখানে বলা হয়, তার সময়কালে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে এবং বিভিন্ন অনিয়মে কোম্পানি কার্যত দেউলিয়ার পথে। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন শাহ জামাল হাওলাদার। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য আইডিআরএ’র সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেন এবং সিইও হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। যদিও সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। আইডিআরএ’র চিঠি অনুযায়ী, তার প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায়— অনুমোদন ছাড়াই “সুরক্ষিত দ্বিগুণ প্রদান এক কিস্তি বীমা” বাজারজাত করা হয়, ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে সীমা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ২১.১৭ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয় ২০২১-২০২৩ সালে লাইফ ফান্ডে থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১.২০ কোটি টাকা রয়েছে,প্রায় ৮১.৫২ কোটি টাকার প্রিমিয়ামের বেশিরভাগ খরচ হয়ে গেছে, একক প্রিমিয়ামকে মেয়াদি বীমা দেখিয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২১-২০২৩ সময়কালে অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্প থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার প্রিমিয়াম আদায় করা হয়েছে। অথচ এই অর্থের ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত সীমা ৫% হলেও তা ৪৫% থেকে ৯৫% পর্যন্ত দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে, যা এখনও পুনঃস্থাপন করা হয়নি। এই অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চ আদালতে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে তাদের সব যুক্তি উপস্থাপন করা হবে। সারকথা, বীমা গ্রাহকদের অর্থ, আস্থা এবং ভবিষ্যৎ—সবই এখন ঝুঁকির মুখে। অথচ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের মেয়াদে এসব অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তেই প্রমাণ পাওয়া গেছে।










