
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশীদ মিল্টনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা ও সাধারণ এলাকাবাসী। এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমে গাফিলতি করেছেন। ইউপি সদস্যদের সাথে কোনো আলোচনা না করে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে তিনি কার্যত অকার্যকর করে তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো কাজ না করা, এবং তহবিল ব্যবহারে চরম অনিয়ম তার নিয়মিত আচরণে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, কৃষি প্রণোদনার আওতায় প্রাপ্ত সার ও বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ না করে তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন, আবেদন সংশোধন ও স্থানীয় অন্যান্য সেবার নামে এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগও সংবাদ সম্মেলনে তোলা হয়। ইউপি সদস্যদের ভাষ্যমতে, এসব অর্থ সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, চেয়ারম্যান মিল্টন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সরকারি অনুদান বিতরণ করে যাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের দিয়ে কমিটি গঠন করে তিনি প্রকল্প ও ভিজিডি কার্ড বণ্টনের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করছেন। এছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্প বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, অনৈতিক সুপারিশপত্র ও সনদ বিক্রির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা ঘোষণা দিয়েছেন, অবিলম্বে মামুনুর রশীদ মিল্টনকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে, এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।