এক যুগ ধরে পাঠশালায় ছয় শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড”—এই মূল্যবান প্রবাদটি আজ অবহেলিত এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ১৬১নং পশ্চিম সুবিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ খাদিজা বেগম ২০১১ সাল থেকে দায়িত্বে থাকলেও বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৬ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের বাড়ির পাশেই বিদ্যালয় থাকায় তিনি নিয়মিতভাবে দায়িত্বে অবহেলা করছেন। সকাল ১২টার পর আসেন, আর ২টার মধ্যেই বাড়ি চলে যান বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো—নিজের নাতি ও স্বজনদের তিনি ভর্তি করেছেন পাশের একটি স্কুল, নলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, যিনি নিজের নাতিকে নিজের স্কুলে না পড়ে অন্যত্র পড়াতে পছন্দ করেন, তিনি কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দেবেন? এছাড়াও, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে এখনো ঝুলিয়ে রেখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর নামাঙ্কিত নেমপ্লেট—যা তিনি নিজ খরচে যত্ন করে রেখেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ এ নেমপ্লেট সরানোর কথা বললেই তিনি গালিগালাজ করেন এবং স্থানীয়দের হুমকি দেন। বিএনপির স্থানীয় সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম খান ঘটনাটি জানার পর প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাকেও অপমানিত হতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে খাদিজা বেগম সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন, যদিও তার কোনও প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর বক্তব্য, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ভালো শিক্ষালাভ করুক। কিন্তু খাদিজা ম্যাডামের মতো একজন দুর্নীতিবাজ শিক্ষিকার অধীনে আমাদের সন্তানদের পাঠানো অসম্ভব। তিনি একজন ফ্যাসিবাদী মানসিকতার মানুষ, আওয়ামী লীগের নাম করে মানুষকে হুমকি দেন, ভয় দেখান। বলেন—‘আওয়ামী লীগ পালায়নি, সময় আসলে দেখে নেব।’ এমন হুমকি কি একজন শিক্ষকের মুখে মানায়?” অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা বিভাগ কিংবা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন—“এই বিদ্যালয় যদি এক যুগেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে না পারে, যদি প্রধান শিক্ষিকা নিজেই সন্তানদের অন্য স্কুলে পড়ান, তাহলে এই বিদ্যালয় চালু রাখার যৌক্তিকতা কোথায়?” সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে স্থানীয় জনসাধারণ।

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

এক যুগ ধরে পাঠশালায় ছয় শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ

25 May 2025
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com