
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক দম্পতির নেতৃত্বাধীন বেসরকারি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এনআরবি ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান গোলাম মো. কিবরিয়া ও তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম। তারা একসময় সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ২০২৪ সালের ১০ জুন পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করে, প্রতিষ্ঠানটির সিইও শাহ জামাল হাওলাদারের নেতৃত্বে কোম্পানিটি একের পর এক আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অথচ উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি এখনো পদ আঁকড়ে রয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, শাহ জামাল হাওলাদারের পূর্ববর্তী মেয়াদে তার প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায়— অনুমোদিত সীমার ১.৪৮ গুণ বেশি অর্থাৎ ২১.১৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে, অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্প ‘সুরক্ষিত দ্বিগুণ প্রদান এক কিস্তি বীমা’ বিক্রি হয়েছে, ক্যাশ ইন হ্যান্ডের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, ৮১.৫২ কোটি টাকার প্রিমিয়ামের বিপরীতে লাইফ ফান্ডে মাত্র ১.২০ কোটি টাকা জমা আছে। ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কোম্পানিটি অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্প থেকে প্রায় ২৩.১৫ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, যেখানে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সীমা থাকার কথা মাত্র ১.১৬ কোটি টাকা, অথচ বাস্তবে তা ৪৫%-৯৫% পর্যন্ত ব্যয় দেখিয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আইডিআরএ আরও জানায়, এসব অনিয়মের কারণে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা দেউলিয়া পর্যায়ে চলে গেছে। সংস্থাটি সিইও শাহ জামাল হাওলাদারের পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব নামঞ্জুর করলেও, উচ্চ আদালতের রুল ও স্থগিতাদেশের সুযোগে তিনি দায়িত্বে থেকে যাচ্ছেন। যদিও চেম্বার আদালত হস্তক্ষেপ না করে বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত-অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত তিন বছরে কোম্পানিটি মোট ৮১ কোটি টাকার বেশি প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, কিন্তু বিনিয়োগ বা দাবি পরিশোধের তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বরং ১৮ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ৭ কোটি টাকাও খরচ হয়ে গেছে, যা পুনর্ভরণ করা সম্ভব হয়নি। এতসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ সত্ত্বেও, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণেই বলে ধারণা করা হচ্ছে—এই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন। তদন্ত ও বিচারিক পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি, নতুবা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন হাজারো বীমা গ্রাহক, এবং বিনিয়োগ হারাবে আস্থা।










