
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামে দুই সন্তানের জননী রুপা খাতুনকে ফুঁসলিয়ে গোপনে বিয়ে করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় যুবক সজীব (২১) প্রেমের ফাঁদে ফেলে রুপাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি এলাকায় সজীবের দুলাভাইয়ের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সূত্রে জানা গেছে, রুপা খাতুন (২৬) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের মা। দেড় বছর আগে ফেসবুকে সজীবের সাথে পরিচয় থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রুপা শুরু থেকেই তার বৈবাহিক অবস্থা এবং সন্তানদের কথা গোপন রাখেন। গত ১১ মে ভোরে রুপা খাতুন বাড়ি থেকে পালিয়ে সজীবের সাথে আলমডাঙ্গায় আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে খোকসা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আলমডাঙ্গায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালালেও সজীব ও রুপা পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। গতকাল ১৫ মে, রুপা খাতুনের বাবা, শ্বশুর ও তার দুই সন্তান আলমডাঙ্গায় এসে রুপার খোঁজ করছেন। তারা অভিযোগ করেন, রুপা এখনো নিখোঁজ এবং তার দুই সন্তান মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে। রুপার বাবা জানান, “আমার মেয়ে এমন ছিল না। সজীব নামে ছেলেটা তাকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করেছে। আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।” অন্যদিকে সজীবের পরিবার দাবি করছে, তাদের ছেলে পছন্দ করে বিয়ে করেছে। সজীবের বাবা মন্টু মণ্ডল বলেন, “আমার ছেলে যদি ভালোভাবে সংসার করে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রুপাকে তিন দিন ধরে সজীবের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে এবং কারো সাথে দেখা বা কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান পিপিএম জানান, “আমরা মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। খোকসা থানার সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু অভিযানের সময় তারা পালিয়ে যায়। তাদের খুঁজে পেতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”










