লিবিয়ায় নির্মম নির্যাতনে মৃত্যু প্লাবনের, নিঃস্ব পরিবার

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের যুবক জুনায়েদ হাসান প্লাবন (২৫) স্বপ্ন দেখেছিলেন পরিবারের অভাব ঘোচাবেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। বড় ভাই সুজন হুসাইন ও একমাত্র বোন স্বপ্না খাতুনের কাছে ছিলেন খুব আদরের। ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দালালের মাধ্যমে দুবাই হয়ে লিবিয়া পাড়ি জমান প্লাবন। উদ্দেশ্য ছিল সেখান থেকে সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছানো। শুরুতে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি হলেও দালালচক্র একের পর এক অজুহাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করে মোট ৪২ লাখ টাকা। ওই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় পরিবার। বুধবার (১৪ মে) সকালে প্লাবনের মৃত্যুর খবর আসে। লিবিয়ায় আটক থাকা প্লাবনের সঙ্গী জুয়েলের স্ত্রী এক ভিডিও কলে পরিবারের একজনকে জানান, “প্লাবন আর বেঁচে নেই।” প্লাবনের বাবা জমশেদ আলী বলেন, “আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। প্লাবন ছিল সবার ছোট। দালালরা ভিডিও কলে নির্যাতনের ছবি দেখিয়ে বারবার টাকা চাইত। সব দিয়েও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।” বড় বোন স্বপ্না খাতুন বলেন, “ভাইয়ের মাথায় বিশ দিন আগে আঘাত করে। এরপর থেকে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওদের নির্যাতনের কথা শুনেই আঁতকে উঠতাম। আজ জানতে পারলাম, ওরা ওকে মেরে ফেলেছে।” ভাবি মাবরুকা ফাইজা বলেন, “প্লাবনের সঙ্গে ছিল পাশের লিবিয়ায় আটক জুয়েল। সকালে জুয়েলের স্ত্রীকে ভিডিও কলে জানায়—প্লাবন আর নেই। ওর মাধ্যমেই খবরটা পাই আমরা।” মা আদরি খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেকে আর দেখতে পারব না। শুধু একটা অনুরোধ—ছেলের লাশটা ফেরত দাও। আমি অন্তত একবার চোখের সামনে ওকে দেখতে চাই।” পরিবারের অভিযোগ, বেলগাছি গ্রামের জান্টু মালিথার ছেলে সাগর (বর্তমানে লিবিয়ায়) এবং ঠান্টু মালিথার ছেলে জিম (গ্রামে) দালালি ও টাকা আদায়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, “সকালে মৃত্যুর খবর পেয়ে সাগর ও জিমের বাড়িতে যাই। দেখি, সবাই তালা লাগিয়ে পালিয়েছে।” প্লাবনের পরিবারের দাবি, দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের একটাই অনুরোধ—“প্লাবনের লাশ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031