তৌহিদ, মাগুরা প্রতিনিধি | মাগুরা জেলার হাজরাপুরের লিচু এখন জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জানা যায় যে, জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে সদর উপজেলার হাজরাপুর এলাকার লিচু অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মান সম্পন্ন হওয়ায় মাগুরা জেলা প্রশাসক ২০২৩ সালের ২৩ আগষ্ট "মাগুরার হাজরাপুরের লিচু"কে জিআই পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেন। পরবর্তীতে আবেদনের সকল তথ্য যাচাই বাছাই করে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পেটেন্ট,শিল্প- নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের ৩৭ নং জার্নালে "মাগুরার হাজরাপুর লিচু" কে জিআই পণ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়। (যার ভৌতিক নির্দেশক নম্বর - ৩৫ ) অবশেষে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল মাগুরা জেলা প্রশাসককে স্বত্বাধিকারী করে " মাগুরার হাজরাপুরের লিচু " কে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসাবে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়। পরব্রতীতে তা ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রদান করা হয়। সেই থেকে " মাগুরার হাজরাপুরের লিচু" দেশ বিদেশে বেশ সমাদৃত হতে থাকে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও মাগুরার হাজরাপুরে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লিচু ধরতে দেখা যায়। তারপরও লিচু চাষীরা এবছর তেমন খুশী হতে পারছেনা, কারন প্রচন্ড খরায় এবছর লিচুর ফলন যেমন কমেছে তেমনি লিচুর আকারও বেশ ছোট হয়েছে। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা পেলে "মাগুরার হাজরাপুরের লিচু " এক সময় দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে হাজরাপুরের লিচু চাষীরা মনে করেন। "মাগুরার হাজরাপুরের লিচু " জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির প্রচারনার অংশ হিসাবে রবিবার ১১ এপ্রিল -২০২৫ মাগুরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদ্য স্বীকৃতি প্রাপ্ত জিআই পণ্য হিসেবে মৌসুমের প্রথম লিচু সংগ্রহের অনুষ্ঠান ও লিচু মেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মোঃ অহিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা সহ জেলার কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী,রাজনৈতিক বঢ়ক্তিবর্গ সহ হাজরাপুর এলাকাবাসী ও লিচু চাষীগণ। মৌসুমের প্রথম লিচু সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাগুরা জেলা প্রশাসক মোঃ অহিদুল ইসলাম বলেন, "মাগুরার হাজরাপুরের লিচু " ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট,শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর থেকে ভৌগোলিক নির্দেশক ( জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন লাভ করেছে । এটি মাগুরাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় এবং কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি মাইলফলক।