ডেস্ক | ১০ মে ২০২৫, শনিবার
দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখার স্বার্থে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সকল রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও প্রচারমূলক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র মাঠের রাজনীতিতে নয়, সাইবার ও ডিজিটাল মাধ্যমেও কার্যকর থাকবে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক দলকেও বিচারের আওতায় আনতে পারবে বলে জানান তিনি।
নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর শাহবাগ, যমুনা চত্বরে এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দলটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন আগামী কর্মদি
বসে জারি করা হবে।