চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিন কলেজ পড়ুয়া যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন—আব্দুল সালামের ছেলে ও আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ রুহুল হোসেন (২১), জাহিদুল হাসানের ছেলে ও হারদী এস এম জোহা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ শোভন ইসলাম (২০) এবং সাদ আহম্মেদের ছেলে মোঃ সামাদ আলী (২০)। এদের মধ্যে শোভন ও রুহুল মারধরের শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তিন যুবক বিদ্যালয়ের পেছনের রাস্তা দিয়ে এক বন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষক তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে আনেন। এরপর বিদ্যালয়ের দপ্তরির মাধ্যমে ডেকে এনে অফিস কক্ষে শোভন ও রুহুলকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তবে আত্মীয়তার কারণে সামাদ আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আহত দুই শিক্ষার্থীকে পরে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন (৭ মে) দুপুরে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগেও অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয় পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “১৭-১৮ জন ছাত্রী শোভন ও রুহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমি তাদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং শিক্ষামূলক শাস্তি হিসেবে আঘাত করি।” ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শোভনের ভাই বলেন, “আমরা প্রধান শিক্ষককে সম্মান করি, কিন্তু এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা আইনগত ও নৈতিকভাবে ভুল। যদি কোনো অভিযোগ থাকতো, তাহলে আমাদের পরিবার বা পুলিশকে জানানো যেত। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।” এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়রা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। 