নোয়াখালী সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মৎস্যখামারে ট্রাক্টর চাষ দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে বিবাদী পক্ষ। মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুরুল আমিন ২০২১ইং সালের ১মার্চ ২নং দাদপুর ইউনিয়নের কাশিপুর মৌজার ১৮৭নং খতিয়ানভুক্ত ১০২৭নং দাগের ৫৯.৫০ ভূমি ও ১১০৮নং দাগের আন্দরে ১ শতাংশ ভূমির মালিক পক্ষ গোলাম মাহমুদ ও মোঃ গোলাম কুদ্দুছ কামালের সাথে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিমূলে ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ইং সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী ইং তারিখ পর্যন্ত উক্ত ভূমি খামারির দখলে থাকবে মর্মে চুক্তি হয়। মালিক ভুক্তভোগী নুরুল আমিন সাজু বিগত ২০১৬ইং সালের অক্টোবরের ৩ তারিখে নোয়াখালী মৎস্য অফিস থেকে মৎস খামার লাইসেন্স (নং ২০৪১) সম্পূন্ন করেন। ২০২৪ইং সালের ২০জুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের সময় বাদীর মৎস্য খামারে জোর পূর্বক ট্রাক্টর চাষ দেয়। ট্রাক্টরের ধারালো লাঙ্গলের আঘাতে মৎস্য খামারের ছোট বড় সমস্ত মাছ কেটে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পরে ভুক্তভোগী নুরুল আমিন সাজু। এই ঘটনায় মৎস্য খামারের মালিক ভুক্তভোগী নুরুল আমিন সাজু (৪৭) বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত ২জনকে আসামি করে নোয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলা করেছেন। মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত সদর উপজেলার ২নং দাদপুর ইউনিয়নের স্থানীয় (৭নং ওয়ার্ড) কাশিপুরে। খামারের মালিক নুরুল আমিনকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে একই গ্রামের জাফর আলীর বাড়ির মৃত নছির আহম্মদের ছেলে প্রধান অভিযুক্ত মহিন উদ্দিন (৪৫) প্রকাশ ডাক্তার পূর্ব শুত্রুতার জের ধরে দিনে দুপুরে ২নং বিবাদী ২য় প্রধান অভিযুক্ত আবুল খায়ের (৪৮) সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাত নামা আরও ৮/৯ জন নিয়ে দিনে দুপুরে মৎস্য খামারে ট্রাক্টর চাষের মত এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নুরুল আমিন বলেন, ৪নং স্বাক্ষী মোঃ রুবেল ট্রাক্টরের ড্রাইভারের দায়িত্বে ছিলেন এবং ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। মামলার বাদি নুরুল আমিন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এর আগেও ২০১৬ইং সালে ১৮ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযুক্তরা তার ৩ একরের মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ ধ্বংস করে ফেলে। উক্ত ঘটনায় জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক সচিত্র নোয়াখালী পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তরা অত্যান্ত শক্তিশালী হওয়ায় আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা ও ট্রাক্টর দিয়ে মাছ ধ্বংস করার ঘটনায় বাদী নুরুল আমিন বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত মহিন উদ্দিন ও আবুল খায়ের সহ ৮/৯ জন অজ্ঞাত নামাকে আসামি করে নোয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে সিআর (যার মামলা নং- ১৩৬/২০২৪) মামলা করেন। এ ঘটনায় সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মানস মন্ডল বলেন, আদালত থেকে আদেশ প্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। আদালতে লিখিত প্রতিবেদন প্রদান করব। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।