
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা নীতিমালা ও অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক অগ্রগতিতে বিশ্বাস করি।” তিনি সব মহলের সুচিন্তিত মতামত আহ্বান করে বলেন, “আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে এগিয়ে যেতে চাই।”
আজ ঢাকায় গুলশানের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে PFAS (Perfluoroalkyl and Polyfluoroalkyl Substances) দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় শুধু নারী ও শিশুর জীবনমান উন্নয়নেই নয়, বরং মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেই কাজ করছে।” পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অনেক সম্পদ আছে, কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহারের অভাবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে।” তিনি রাষ্ট্রপর্যায়ে দুর্নীতিকে দেশদ্রোহিতার শামিল আখ্যা দেন এবং নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “আমরা একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছি। সবাই একসাথে না এগোলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। নদী গবেষণার ফলাফল বা প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনগুলো শুধু কাগজে পড়ে থাকলে চলবে না, এখনই তা কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি বলেন, PFAS একধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে চামড়া ও টেক্সটাইল শিল্প থেকে এই বর্জ্য নদী ও মাটিকে দূষিত করছে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নদীগুলোর পানিতে মারাত্মক দূষণের প্রমাণ মিলেছে।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, PFAS—যা ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ নামে পরিচিত—এটি সহজে দূর হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যান্সার, লিভার ক্ষতি, থাইরয়েড সমস্যা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। বিশেষত নদীতীরবর্তী নিম্ন আয়ের মানুষ সরাসরি এই দূষণের শিকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নদী সংরক্ষণ কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্জ্য ও রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রাজিনারা বেগম, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের উপদেষ্টা এসএম সিদ্দিকী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হাসান জীবন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, পরিবেশবাদী শরীফ জামিল, ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধি জাকি এসপোসিটো, সাইপ্রেস সিস্টেমস ইনকর্পোরেটেডের টেকনিক্যাল অফিসার জাকি ইউসুফ প্রমুখ। এছাড়াও পরিবেশবিদ ও সামাজিক কর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের PFAS দূষণ রোধে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব তৈরির আহ্বান জানান।










