মোঃ তরিকুল ইসলাম : আজ বৃহস্পতিবার (১ মে) দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় তিন দিনের ছুটিকে ঘিরে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। মে দিবসের ছুটি ও পরবর্তী দুই দিন শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে হাজারো পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন কুয়াকাটায়। সকাল থেকে সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রিক স্পটগুলো ছিল পর্যটকে মুখর। ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসা পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার বিরল সুযোগ, বিস্তীর্ণ সমুদ্রতট,চর ও রাখাইন পল্লী—এসব আকর্ষণ পর্যটকদের কুয়াকাটামুখী করেছে। হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কুয়াকাটার প্রায় ৮৫ শতাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ বুকিং হলেও পর্যাপ্ত রুম এখনো খালি রয়েছে। ফলে কোনো পর্যটক হোটেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বরং নতুন পর্যটক আসাও অব্যাহত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শুক্রবার পর্যন্ত অধিকাংশ রুমই পূর্ণ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, বাহন সেবা ও আচার ঝিনুক দোকানে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং লাইফগার্ড টিমও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনপরই মে দিবসের এই ছুটি কুয়াকাটার পর্যটন খাতে প্রাণ ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিচ-সার্ভিস, ঘোড়ার গাড়ি, নৌকা ভ্রমণসহ বিভিন্ন পর্যটনসেবায় উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। তিন দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের এমন বিপুল উপস্থিতি কুয়াকাটার পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীদের ধারণা, রোববার থেকে পর্যটকের চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে।