চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নে হাউসপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে একের পর এক অনুমোদনহীন আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। এসব ফ্যাক্টরিতে বিএসটিআই কিংবা খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকলেও প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার আইসক্রিম। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এই খাবার বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে হাউসপুর এলাকায় অন্তত চারটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়—শাপলা সুপার আইসক্রিম, মুছা সুপার আইসক্রিম, মুবিন সুপার আইসক্রিম এবং লুটাস সুপার আইসক্রিম। এসব ফ্যাক্টরির কোনোটিরই বিএসটিআই অনুমোদন নেই, নেই খাদ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও। আইসক্রিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিএসটিআই, খাদ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকারের ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও, হাউসপুরের এসব ফ্যাক্টরি কোনোরকম অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ফ্যাক্টরিতেই দেখা গেছে অস্বাস্থ্যকর, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ফ্যাক্টরিগুলোতে কোনো হাইজিন ব্যবস্থা নেই। ছাদের বদলে টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাউনি, মেঝেতে পানির ছিটে এবং ধুলাবালি। শিশু ও অপ্রশিক্ষিত শ্রমিকরাই এখানে কাজ করছে—হাত ও মাথা খোলা রেখেই। বিশেষ করে লুটাস সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার পিস আইসক্রিম তৈরি হচ্ছে। অথচ সেখানে নেই কোনো মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিংবা আইনি অনুমোদন। শাপলা সুপার আইসক্রিম ফ্যাক্টরির প্যাকেটে বিএসটিআই লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটির কোনো বিএসটিআই অনুমোদন নেই। ভোক্তাদের সঙ্গে এটি এক ধরনের প্রতারণা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মালিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই এলাকা ত্যাগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ছোট ছেলে প্রতিদিন আইসক্রিম খেতে চায়, কিন্তু কী দিয়ে বানানো হচ্ছে তা ভেবে এখন আর কিনতে সাহস হয় না।” শাহিদা বেগম নামে আরেক নারী বলেন, “এইসব ফ্যাক্টরি দেখে মনে হয় জেলায় কোনো প্রশাসনই নেই। শিশুদের দিয়ে যেভাবে কাজ করানো হচ্ছে, তা দেখে মন কেঁপে ওঠে।” তরুণ সমাজকর্মী মনিরুল হাসান বলেন, “আইসক্রিমের মতো স্পর্শকাতর খাবারে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের দায়িত্ব এসব ফ্যাক্টরি বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা।” স্থানীয়দের অভিযোগ, গরমের সময় আইসক্রিমের চাহিদা বেশি থাকায় এসব ফ্যাক্টরি রাতদিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রশাসনের কোনো অভিযান বা তদারকি চোখে পড়ছে না। এতে করে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে এসব অনুমোদনহীন এবং বেআইনি ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।