
রিপোর্ট: এম এস শ্রাবন মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার:আজ ১লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের স্মারক দিন। এ দিনটি বিশ্বের বহু দেশে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ১১ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই শ্রমিক অধিকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। পরবর্তী সময়ে, ১৮৯০ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কংগ্রেসে ১ মে-কে শ্রমিক দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিনটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে পালন হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কাজের সময়, ন্যায্য মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। বাংলাদেশও আইএলও স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির প্রসার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের বাস্তবতাও দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই মে দিবস শুধু অতীত স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের শ্রমবান্ধব সমাজ গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আজকের এই দিনে শ্রমজীবী মানুষের সম্মান, অধিকার এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার হোক নতুন করে দৃঢ়।