
মোঃ রনি রজব : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠেছে। উপজেলায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের বসবাস থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এখানে চিকিৎসক পোস্টিং হলেও সহজেই বদলি হয়ে চলে যান চিকিৎসকরা। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। জনবল সংকট হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজের রোগী দেখেন উপহেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মাহবুব হাসান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা মোট ১৫ টি পদে ২৫ জনের মধ্যে কর্মরত পদে আছে সব মিলিয়ে ৯ জন। তারমধ্যে জুনিয়র কলসালটেন্ট ২ জন, তারা সপ্তাহে দুইদিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া,সার্জারি মেডিসিন, শিশু, অর্থপেডিক্স,কার্ডিওলজি, ইএনটি,চর্ম ও যৌন) আবাসিক মেডিকেল অফিসার সহকারী সার্জনসহ ১৬ টি পদ শূন্য আছে। নেই নার্সিং সুপারভাইজার। প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক, পরিসংখ্যানবীদ,স্টোর কিপার, অফিস সহকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, হেলথ এডুকেটর, কম্পিউটার অপারেটর, স্যাকমো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিও)মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, (ইপিআই)স্বাস্থ্য সহকারী সহ মোট ৬১ টি পদের মধ্যে ১৬ টি পদ শূন্য। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর নিরাপত্তা কর্মী, এমএলএসএস, মালি,ওয়ার্ডবয়,কুক, আয়া,ঝাড়ুদার সহ ২০টি পদের মধ্যে ১৩ টি পদ শূন্য। জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা এখানে বেশিদিন থাকেন না। পোস্টিং পাওয়ার পর বেশিরভাগ চিকিৎসক উপর মহলে তদবির পরে বদলি হয়ে যান,ফলে শূন্য পদ সহজে পূরণ হয় না। এতে করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে প্রচন্ড ভোগান্তি স্বীকার হতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগী সঠিক সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর বা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, হাসপাতালটিতে কিছু আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে সেগুলো কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অশিক্ষিত চিকিৎসক না থাকায় কেউ সেগুলো চালানোর দায়িত্ব নিতে পারছেন না। ফলে রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা শহরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে। বহির্বিভাগ সরকার কর্তৃক সরকার কর্তৃক সরবরাহকিত প্রয়োজনীয় ঔষধের তালিকায় ৪৭ প্রকার ওষুধের নাম লেখা থাকলেও রোগীদের দেওয়া হয় ২০ থেকে ২৫ প্রকার ওষুধ। বহির্বিভাগে প্রায় ৩০০ করে রোগী হয়। দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে পরে রোগীরা।অধিক পরিমাণ রবি দেখার চাপে থাকতে হয় চিকিৎসকদের। ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব হাসান বলেন, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা। চিকিৎসকদের এখানে পোস্টিং দেওয়া হলেও তারা এখানে আসেনা। যারা আছেন তারা বদলে হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেক পদ শূন্য থাকায় আমাদেরকে সীমিত জনবল দিয়েই প্রতিদিন করে তিন শতাধিক এর ওপরে রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আমি নিজে প্রতিদিন রোগী দেখি যাতে কেউ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। আমাদের এখানে কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। আমরা সরকারের সরবরাহ অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করতে।









