শুভ্র মজুমদার : এক সময় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঘরে ঘরে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কলস, খেলনা আর শৌখিন দ্রব্যের ব্যবহার ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। এই মৃৎশিল্প ছিল শুধু পেশা নয়—একটি জীবন্ত সংস্কৃতি, এক টুকরো ঐতিহ্য। আজ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে সময়ের স্রোতে। কর্মকারপাড়া, বেতডোবা, এলেঙ্গা, বল্লা, নাগবাড়ী, গোহালিয়াবাড়ি, গোহিনপুর—কালিহাতীর এসব গ্রামে এক সময়ের ব্যস্ত মৃৎশিল্প আজ নিস্তব্ধ। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এখনও পেশাটি ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তারাও দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। প্রবীণ মৃৎশিল্পী হরিদাস পাল আক্ষেপ করে বলেন, মাটিই ছিল আমাদের জীবন, সেই মাটির কাজ এখন কেউ শিখতে চায় না। বিক্রিও নেই, লাভ তো দূরের কথা। শিল্পীরা জানান, প্লাস্টিক ও মেলামাইনের দাপটে মাটির পণ্যের চাহিদা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। অন্যদিকে কাঁচামালের দাম বাড়লেও নেই কোনো সরকারি সহায়তা, নেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ। সংস্কৃতি গবেষক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ। মৃৎশিল্পীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজার সম্প্রসারণ—এই তিনটি দিকেই জোর দিতে হবে এখনই। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতেই কালিহাতীর শতবর্ষ প্রাচীন মৃৎশিল্প হারিয়ে যাবে কেবল ইতিহাসের পাতায়।