
জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদেরকে যতটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ততটা অপূরণীয় ক্ষতির সাথে সমোঝোতা করিয়েছে। মানবজাতি এখন টেনিসনের মত বলছে,ভাবছে “আই উইল ড্রিঙ্ক লাইফ টু দ্যা লীস”। একইভাবে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির তলানি না শুষে ছাড়ছি না।
কিন্তু এরপরে কী ঘটবে?
একসময় এই ভূ-গোলক থেকে জ্বীবাশ্ম জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বিকল্প কী? ভাবতে হবে এখনই। আসুন ভাবনটা মফস্বল থেকে শুরু করি।
বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস, পানির স্রোতসহ অনেককিছুই সংযোজিত হয়। আমরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখব মফস্বলি সম্পদ বায়োগ্যাসকে।
বায়োগ্যাস সংক্রান্ত তথ্যঃ
জৈব পদার্থগুলো পচনের ফলে যে বিভিন্ন গ্যাস পাওয়া যায় তার একটি মিশ্রিত রূপ হচ্ছে বায়োগ্যাস এবং সাধারণভাবে কৃষি বর্জ্য, জৈব সার, পৌর বর্জ্য, উদ্ভিদ সৃষ্ট উপকরণ, নর্দমার বর্জ্য, সবুজ বর্জ্য বা খাদ্য বর্জ্য ইত্যাদি কাঁচামাল হতে বায়োগ্যাস উৎপন্ন হয়। বায়োগ্যাস প্লান্ট হতে শুধু যে রান্নার জন্য গ্যাস পাওয়া যায় তাই নয়, এ থেকে শস্য ও মাছের পুকুরের জন্য জৈব সারও মেলে। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এর নন ব্যাংক ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন হিসেবে “ইডকল” বায়োগ্যাস সেক্টরে বিনিয়োগ করে থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR), GIZ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সারাদেশে সর্বমোট ৭৬,৭৭১ টি বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য কিছু সক্রিয় কর্মসূচী ও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ৩১.০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বায়োগ্যাস/ বায়োমাস থেকে উৎপাদনে স্রেডা’র উদ্যোগে সরকারী এবং বেসরকারী পর্যায়ে বায়োমাস/বায়োগ্যাস, ডেইরি ও পোলট্রি বর্জ্য, মিউনিসিপালিটি বর্জ্য, কসাইখানার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। যেহেতু সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের পর কোন গৃহস্থালীতে নতুনভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ থাকবে না সেহেতু বায়োগ্যাস ব্যবহার করে রান্না বা গৃহস্থালীর অন্যান্য ব্যবহার আর্থিকভাবে সম্ভাবনাময়। তবে এসব ক্ষেত্রেও বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর বর্জ্য (Slurry) ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ যা বায়োগ্যাস গাইডলাইনে সুষ্ঠুভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্রেডা’র উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৩ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয় যারা ইতোমধ্যে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে গাইডলাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছেন এবং প্রণীত গাইডলাইনটি অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত গাইডলাইন প্রণীত হলে বাংলাদেশে বায়োগ্যাসের বাণিজ্যিক প্রসার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাসমূহ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে পীরগঞ্জে ৬৯ টি মৌসুমী খামারী/ ব্যাপারীর খামারে প্রায় ৬১০ টি গরু( ষাঁড়,বলদ,গাভী) রয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, ৭-৮ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের জন্য ৫-৬ টি মাঝারি আকারের গরুর দৈনন্দিন গোবর থেকে ১০৫ঘনফুট গ্রাস উৎপাদন সম্ভব যা দিয়ে তিন বেলার রান্না-বান্না সহ একটি বাতি জ্বালানো যাবে। মোট গরু ব্যাতিত অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা ৪৭৫(মহিষ,ছাগল, ভেড়া,অন্যান্য)। পীরগঞ্জে বিরাজমান সম্ভবনার মত অন্যান্য উপজেলার হিসেব মেলালে একটি বড় সম্ভবনা প্রতিফলিত হয় যা সামষ্টিক উদ্যোগে বাস্তবায়িত হলে টেনিসনের মত প্রশান্তি নিয়ে আমরা বলতে পারি” আই উইল ড্রিঙ্ক লাইফ টু দ্যা লীস”।










