
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের মনকষা মন্ডলপাড়ার মোছাঃ লাবনী খাতুন এখন চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ২০১৭ সালে দুই বছরের প্রেমের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাউকি ইউনিয়নের বকশিপুর ঈদগাপাড়ার মোঃ মিজানুর রহমান লিটনের সঙ্গে। ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সংসারে একমাত্র কন্যা লামিয়া খাতুনের জন্মে পূর্ণতা আসে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে লিটন সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাস জীবনের প্রথম বছর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও দ্বিতীয় বছর থেকেই শুরু হয় দূরত্ব। ধীরে ধীরে স্ত্রীর খোঁজখবর নেওয়া ও খরচ পাঠানো বন্ধ করে দেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, সৌদিতে থাকা অবস্থায় লিটনের পরিচয় হয় গাইবান্ধা জেলার এক টিকটক সেলিব্রিটি মোছাঃ মরিয়মের সঙ্গে, যিনি দুই সন্তানের জননী। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ খবর জানাজানি হলে লিটনের পরিবারও লাবনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। লাবনী অভিযোগ করেন, “লিটনের মা-বাবা ও খালু—সবাই মিলে মরিয়মকে ঘরে তোলার চেষ্টা করছে। মরিয়মের পরিবারের টাকার প্রতি তাদের লোভ রয়েছে। তাই আমাকে ও আমার সন্তানকে বাদ দিয়ে তারা মরিয়মকে পছন্দ করছে।” এদিকে মরিয়মের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের মতে, টিকটক ও ফেসবুকে ‘বৃষ্টি’ নামসহ বিভিন্ন পরিচয়ে পুরুষদের প্রলোভনে ফেলে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একজন সৌদি প্রবাসী বলেন, “প্রথমে সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরে নানা অজুহাতে টাকা নেয়। এখন আমি নিঃস্ব।” আরেকজন জানান, “মরিয়ম আরও দুইজনকে বিয়ে করেছে বলে শুনেছি। এটাই তার ব্যবসা।” তবে এসবের মাঝেও স্ত্রী লাবনীর একটাই চাওয়া—স্বামীকে ফিরে পাওয়া। “আমি কোনো বিচার চাই না, শুধু চাই আমার স্বামী ফিরে আসুক। আমার মেয়েটা প্রতিদিন তার বাবাকে খোঁজে। আমার সংসারটা আবার আগের মতো হোক, এটাই চাই,” কাঁদতে কাঁদতে বলেন লাবনী খাতুন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন—প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং যেন একটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার না হয়ে পড়ে।










