চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জনসেবার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। সারাদেশে যখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন আলমডাঙ্গা থানার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় দৃশ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে।
ওসি মাসুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযান। ইতোমধ্যে অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, “আগে সন্ধ্যার পর রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় লাগত। এখন পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারি। সব কৃতিত্ব ওসি সাহেবের।” নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানাতে এখন কোনো ভয় নেই। নারী উন্নয়নকর্মী নাজমা খাতুন জানান,
“এখন থানায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারি। পুলিশ সহানুভূতির সঙ্গে আমাদের কথা শোনে। এটা একটা বড় পরিবর্তন।”
ওসি মাসুদুর রহমান শুধু জনগণের সঙ্গেই নয়, থানার প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। এতে থানার সার্বিক সেবা উন্নত হয়েছে। উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) আজগার আলী বলেন,
“ওসি স্যারের নির্দেশনায় আমরা প্রতিটি তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করার চেষ্টা করি। তিনি সবসময় পেশাদার আচরণে গুরুত্ব দেন।” ওসি মাসুদুর রহমান বলেন,
“আলমডাঙ্গাকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা জনগণের সঙ্গে একযোগে কাজ করছি। পুলিশ শুধু শাসনের বাহিনী নয়, এটি সেবার বাহিনী—এই বিশ্বাস থেকেই কাজ করি।” আলমডাঙ্গা থানার এই উন্নয়ন কেবল একটি উপজেলার গর্ব নয়—এটি দেশের অন্যান্য থানার জন্য হতে পারে অনুকরণীয় এক মডেল। এক জন অফিসারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষ নেতৃত্ব কীভাবে একটি থানার চিত্র পাল্টে দিতে পারে, ওসি মাসুদুর রহমান তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।