
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক মীর মহীউদ্দীনের কুলখানি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় সাত হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পুরোনো মুখ মীর মহীউদ্দীন ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং আলমডাঙ্গা পৌরসভার দুইবারের সফল মেয়র। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী এই সংগ্রামী রাজনীতিক মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিলেন জনমানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার কুলখানিতে আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দোয়া মাহফিল ও খাবারের আয়োজন ঘিরে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। নারীদের জন্য ৪০০ এবং পুরুষদের জন্য ১১০০ জনের পৃথক প্যান্ডেলে বসার ও খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়। হালকা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মরহুমের ভাতিজা মীর উজ্জ্বল জানান, “চাচার প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে আমরা অভিভূত। তিনি সত্যিকারের একজন জননেতা ছিলেন, যাকে মানুষ শ্রদ্ধা করে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছে।” এর আগে, ৪ এপ্রিল রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীর মহীউদ্দীন মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, পরদিন ৫ এপ্রিল শনিবার আলমডাঙ্গা পুরাতন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আযানের ধ্বনি শুনিয়ে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয় আলমডাঙ্গা কেন্দ্রীয় দারুস সালাম কবরস্থানে। জানাজায় অংশ নেয় হাজারো মানুষ। শোকবিধুর পরিবেশে কান্নায় ভেঙে পড়ে এলাকাবাসী। বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মহীউদ্দীন শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন ত্যাগী নেতা, মানবসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এবং এলাকার মানুষের অভিভাবক। তার অবদান আজও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে চুয়াডাঙ্গাবাসী।










