জাবির আহম্মেদ জিহাদ : গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের মুক্তি ও মসজিদুল আকসা পুনরুদ্ধারের দাবিতে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও প্রতিবাদের ঢল নেমেছে। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ও উলিয়া ইউনিয়নের উদ্যোগে রবিবার (১৩ এপ্রিল) এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের পর ইসলামপুর তাওহীদি জনতার ব্যানারে আয়োজিত এ বিক্ষোভ মিছিলে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি উলিয়া এ এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে যমুনা নদীর তীর, উলিয়া বাজার হয়ে চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান এবং দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, "ইসরায়েল যে নির্মমতা ও বর্বরতা চালাচ্ছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। অবিলম্বে এ আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সমাবেশে আরও ঘোষণা দেওয়া হয়—ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের মাধ্যমে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উলিয়া বাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আমিনুল ইসলাম, চিনাডুলী ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আরিফুল ইসলাম, এবং ইংরেজি ভাষণে বক্তব্য দেন ‘জুলাই বিপ্লব’-এর অন্যতম সংগঠক জুনায়েদ আল হাবিব জিহাদ। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী জনতা ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে—*‘From the river to the sea, Palestine will be free’, ‘Stop killing children of Palestine’, ‘Boycott Israel’, ‘ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ’, ‘নেতানিয়াহুর গালে জুতা মারো’* সহ আরও অনেক প্রতিবাদী স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে উলিয়া ও চিনাডুলীর পথঘাট। ইসলামপুরের প্রান্তিক জনপদে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী আন্দোলন প্রমাণ করে, ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা কতটা গভীর এবং সত্যিকারের মানবতা আজ কেবল শহরেই নয়, গ্রামেও জেগে উঠেছে।