
মোঃ রাসেদ বিল্লাহ চিশতী : নোয়াখালী চৌমুহনীর নরোত্তমপুর কলেজ রোডের আপন নিবাস হাউজিং এলাকার আর রশীদ ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় দুই মাস ধরে বলৎকারের শিকার হয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী। (১১ এপ্রিল) রাতে প্রকাশ হওয়া ছাত্র বলৎকারের বিষয়ে জানাজানি হলে যায়, মাদ্রাসার নূরানী শাখার শিক্ষার্থী গত দুই মাস ধরে অভিযুক্ত বাবুর্চি আব্দুল সাত্তার শিশুটিকে মাদ্রাসার ছাদে, রান্নাঘরে ও পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে বলাৎকার করেছে। এছাড়া রমজান মাসে ইফতার শেষে শিশুটির ওপরে যৌন নিপীড়ন চালাতো। মাদ্রাসার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকায় তিনি এ কৌশল অবলম্বন করতেন। স্ত্রী কাছে না থাকায় তিনি শিশু বলাৎকারের মত জঘন্য ঘটনায় লিপ্ত হয়েছেন বলেও জানান। এর আগে তার এলাকায় একাধিকবার শিশু বলাৎকার করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি। শিশুটির সাথে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে আসছেন তিনি। অভিযুক্ত বাবর্চি আব্দুল সাত্তার লক্ষ্মীপুরের আন্ধারমানিক গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে বলে মাদ্রাসা সুত্রে জানা যায়। শিশুটির বড় বোন জানান, ২০২৩ সাল থেকে তার ভাই ওই প্রায় দেড় মাস থেকে তিনি ছোট ভাইয়ের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন। পড়াশোনায় অমনোযোগী, মাদ্রাসা থেকে ফিরে ঘর বন্ধ করে বসে থাকা ও অপরাধীর মত আচরণের বিষয়টি তার নজরে আসে। গতকাল বিকালে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে কিছু বলতে না চাইলেও পরে সকল ঘটনার বর্ননা দিতে থাকে। এবিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মোহাম্মদ মাসউদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরা এড়িয়ে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে যাবতীয় সহায়তা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন কোন কিছুর সুযোগ না থাকে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া বলেও জানান তিনি। সুধারাম মডেল থানা ওসি মীর জাহেদুল হক রনি জানান, শিশু বলাৎকারের ঘটনায় বাবুর্চি আব্দুল সাত্তারকে রাতেই মাদ্রাসা থেকে আটক করে থানায় আনা হয়। ভুক্তভোগী শিশুর বোন বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০৯ এর ৯ ধারায় মামলা করেছেন।










