এক বিস্ময়কর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বদিনাথপুর গ্রামে। প্রায় তিন মাস আগে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়ে দাফন হওয়া তোফাজ্জল হোসেন তুফান (১৪) হঠাৎ জীবিত ফিরে এসেছে! স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাবের কারণে তুফানের বাবা-মা ঢাকায় কাজ করতেন। গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, তুফান কাউকে কিছু না বলে বাবা-মার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা রওনা দেয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে তুফানের পরিবার আলমডাঙ্গা থানায় একটি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় এক কিশোরকে ভর্তি করা হয়, যে অচেতন অবস্থায় ছিল। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে তার ছবি প্রকাশিত হলে আলমডাঙ্গার বদিনাথপুর গ্রামের মো. সাইদুল ইসলাম তা দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে চিহ্নিত করেন। দীর্ঘ পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই কিশোর মারা গেলে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঈদের ছুটিতে তুফানের বাবা-মা বাড়ি ফিরলে এক সকালে এলাকার লোকজন হতবাক হয়ে যায়— কারণ তোফাজ্জল হোসেন তুফান নিজেই গ্রামে ফিরে এসেছে! অথচ তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে আড়াই মাস আগে।
এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশা, বিস্ময় ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনেকে মনে করছেন, এটি অলৌকিক ঘটনা! আবার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে কাকে দাফন করা হয়েছিল? যে লাশটিকে তুফান ভেবে দাফন করা হয়েছিল, সে আসলে কে?
ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এটি সত্যিই রহস্যজনক। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ভুল পরিচয়ের কারণে যদি অন্য কারো মরদেহ দাফন করা হয়ে থাকে, তবে তার প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটন করতে হবে।"
এখন বড় প্রশ্ন হলো— যে লাশকে তোফাজ্জল হোসেন তুফান ভেবে দাফন করা হয়েছিল, সেটি আসলে কার? তুফান নিজেই যখন জীবিত ফিরে এসেছে, তখন দাফন হওয়া ওই কিশোরের পরিচয় কী?
এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এ ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে তুফানের পরিবার ও স্থানীয়রা।