আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা: বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম শৃঙ্খলায় আনতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শর্ত মেনে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার।
২৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার তিনি জানান, "স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।"
নতুন নির্দেশনার প্রধান শর্তাবলী:
1. লাইসেন্স বাধ্যতামূলক: প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বৈধ লাইসেন্স রাখতে হবে এবং তা দর্শনীয় স্থানে টাঙাতে হবে।
2. তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন তথ্য কর্মকর্তা রাখতে হবে, যার ছবি ও মোবাইল নম্বর প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে।
3. সেবার অনুমোদন: শুধুমাত্র লাইসেন্সে অনুমোদিত সেবাগুলো প্রদান করা যাবে।
4. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি: নির্দিষ্ট পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ বাধ্যতামূলক।
5. অপারেশন সংক্রান্ত নিয়ম: নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোথাও অপারেশন করা যাবে না। প্রতিটি অপারেশন বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে।
6. লাইসেন্স নবায়ন: প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে নবায়ন করতে হবে, না হলে প্রতিষ্ঠান অবৈধ বলে গণ্য হবে।
7. নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নথি: জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চুক্তিপত্র, টিন সার্টিফিকেট, পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, "অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া চলছে বা নিয়ম না মেনে সেবা দিচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সচেতন মহল মনে করছে, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে, বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
(স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানান।)