
ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০২৫: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “জনগণ রাজনীতিবিদদের কাঁদা ছোড়াছুড়ি পছন্দ করে না।” তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে যে দলগুলো বিরোধিতা করছে, তাদের উচিত আগে জামায়াতের অবদান স্মরণ করা। বুধবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ মুজিব পাকিস্তান ভাঙতে চাননি আলোচনা সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, “শেখ মুজিবুর রহমান কখনোই পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ চেয়েছিলেন না। তিনি দেশপ্রেমের জন্য নয়, বরং ক্ষমতার লড়াই করেছেন। যদি ৭ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকেন, তাহলে ৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিনি কেন পাকিস্তানের শাসকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেলেন? ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত আমাদের দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে ভারতীয় মিডিয়া। তবে তাদের উচিত আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা। তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কখনো কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি করেনি। বরং যারা জামায়াতকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে, তাদের উচিত জামায়াতের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখা। ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক তিনি আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “ক্ষমতায় গিয়ে অনেকেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। তবুও জামায়াতে ইসলামী জাতীয় স্বার্থে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেছে।” তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানান। গণহত্যার বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয় জামায়াতের নির্বাচনী অবস্থান ব্যাখ্যা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং গণহত্যার বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন দিলে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে আমরা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন চাই না, বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ছিল জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আলোচনা সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ছিল বাকশাল কায়েমের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭১ আমাদের গর্বের, কিন্তু কেউ কেউ শুধু ১৯৭১-এর ইতিহাস ধরে রেখে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৯ এবং ২০২৪-এর সংগ্রামগুলো স্বীকার করতে চান না।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো আজ নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি না করে, আগে গণহত্যার বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। ভারতের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না” সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, “গত ৫৪ বছরে দেশে বাকশাল, সামরিক শাসন ও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা দেখা গেছে। ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ একতরফা তিনটি সংসদ নির্বাচন করেছে, যেখানে ভারত নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও ভারত একই ভূমিকা পালন করবে বলে জনগণ বিশ্বাস করে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নাক গলানো জনগণ আর সহ্য করবে না। আলোচনা সভায় আরও যারা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মো. দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নানসহ মহানগরীর নেতৃবৃন্দ।










