
ওমর ফারুক আহম্মদ : নেত্রকোনা বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জের (জিরোপয়েন্ট) ইসলাম পুর ও বিরামপুর সীমানায় এক সময়ের প্রতাপশালী ব্যক্তি ছিলেন মোংলা বাবু। সে জমিদারদের মতো চলাফেরা করতো। কেউ কেউ বলে মোংলা বাবু ও তার পূর্ব পুরুষগণ গৌরীপুর রাজার অধিনে বড় কোন দায়িত্বে ছিলেন। তার বাড়ির সীমানা টি ছিলো তিন একর জায়গা জুড়ে। তার রাজকীয় বাড়ি থেকে পুকুরের ঘাট পর্যন্ত পাকা রাস্তা করে নামানো ছিলো। ঐ সময় কোন সিমেন্ট ছিলো না। চুন দিয়ে একপ্রকার মিশ্রণ তৈরি করে গাঁথুনির কাজ গুলো করেছিলো। বর্তমানে পুকুর টি দেখলে মনে হয় এটি কোন জঙ্গল। দীর্ঘ দিন ভূতের ভয়ে এই পুকুরের ধারেকাছে মানুষের আনাগোনা না থাকায় আগাছা জন্মে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। এক সময়ের রাজকীয় এই পুকুর টি আশপাশে গেলে ভূতের ভয় এসে বাসা বাঁধে । ভূতের ভয়ে এলাকা বাসী কেউ-ই এই পুকুর দখল করে না। এছাড়া তার মোংলা শাহ বাবুর জমিজমা ও রাজকীয় বাড়ির ইট গুলোও খুলে নিয়ে গেছে। তার বাড়ি ও পুকুর টি কাগজেপত্রে মোহনগঞ্জের বিরাম পুর মৌজায় অবস্থিত। এক একর জায়গা জুড়ে পুকুর টি বর্তমানে একটু ছোট হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ১৯৪৭ সালের পর সব কিছু রেখে তারা ভারতে চলে যায়। মোংলা বাবুর বাবার নাম ছিলো লিলা শাহ। তাদের বাড়ির আশপাশে আরও কিছু হিন্দু বাড়ি ছিলো। তাদের বাড়ি কে সবাই শালুকপাড়া নামে চিনতো। ইসলামপুর এলাকার মোজাম্মেল হক বলেন,তারা পূর্ব পুরুষ থেকেই খুব প্রতাপশালী ছিলো। ১৯৪৭ সালের পর থেকে তারা আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে যায়। আমাদের মুরুব্বি গণ বলেছেন ১৯৪৭ সালের পর কোন একসময় মোংলা বাবু ও তার পরিবার হঠাৎ একদিন দেশ ছেড়ে চলে যায় । ইসলাম পুরের আরেক মুরুব্বি বজলু মিয়া (৮০) বলেন, আমরা এই বাড়িতে ছোট বেলায় পেয়ারা ফল খেতে যেতাম। ঐ সময় তারা খুব প্রতাপশালী ছিলো। এরপর আমরা সংগ্রামের পর মোংলা বাবু কে নেত্রকোনা রেল স্টেশনে পিঠা বিক্রি করতে দেখেছি। আমি নিজেও পিঠা খেয়েছি, তিনি আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলো ভাগ্যের খাতিরে আজ আমার এই অবস্থা। ইসলাম পুর এলাকার মতিউর রহমান (৮৫) বলেন, আমি মোংলা বাবুকে দেখেছি। তখন আমার বয়স ছিলো ১৫ বছরের মতো। খুব প্রতাপশালী পরিবার ছিলো। পাকিস্তান আমলেই তারা এই দেশ থেকে চলে গেছে। আমার জানামতে সে আর বাংলাদেশে আসেনি। শাহীন মিয়া নামে একজন দখলদার বলেন, অনাবাদি জমি গুলো আমার বাপ দাদারা দীর্ঘ দিন যাবৎ আবাদ করে আসতেছে। পরবর্তীতে আমাদের নামে ডিগ্রিও হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, আমাদের আর কোন ফসলী জমিজমা নেই। সরকার যদি আমাদের কাছ থেকে খাজনা নিতো তাহলে আমরা খাজনা দিতে রাজি। পুকুর টি কেন আবাদ করছেন না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটা মনের ভয়। ভূত বলতে কিছু নেই। তবে এটার মধ্যে অনেক সাপ বিচ্ছু আছে। মোংলা বাবুর জায়গা জমি এখনও এভাবেই আছে। জানা যায় তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি এখনও তার নামেই রয়ে গেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় খালি বাড়ি পেয়ে এলাকার কয়েকজন সুবিধাবাদী মিলে বাড়ি, জমিজমা দখলে নিয়ে ভোগ করছে। কিন্তু তাদের কাছে কোন কাগজপত্র নেই। বাড়ি ও ফসলী জমি দখল করলেও মোংলা বাবুর পুকুরটি ভুতের ভয়ে কেউ দখল করে না। প্রসিদ্ধ আছে এই পুকুরে এক সময় বড় বড় ডেগ পাতিল ভেসে উঠতো। পরে কোন এক মহিলা একটি চামচ রেখে দেওয়ার কারনে ডেগ পাতিল ভেসে উঠা বন্ধ হয়ে যায়। গত কয়েকদিন আগেও এই পুকুরের কিনারা থেকে ১০ কেজি ওজনের একটি গজার মাছ ধরেছিলো মুনসুর আলী নামের এক ব্যক্তি। ১ নং বড়কাশিয়া – বিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলমগীর কবির বলেন, এই পুকুর টি মোংলা শাহ নামের এক হিন্দু লোকের ছিলো। মুরুব্বিদের মুখে শুনেছি তিনি ১৯৫০ সালের আগের এই দেশ থেকে চলে গেছে। দীর্ঘ দিন এই পুকুর টি পরিস্কার না করায় জঙ্গলে পরিনত হয়ে ভৌতিক পুকুরে রুপ নিয়েছে। তাছাড়া আমিও শুনেছি এই পুকুরে ডেগ পাতিল ভেসে উঠতো। আমি পরবর্তী মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে এই পুকুর টি রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ কে অবহিত করবো। যেনো দ্রুত সময়ের মধ্যে পুকুর টি উদ্ধার করে রক্ষণাবেক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হয়।










