তৌহিদ : টয়লেট শেষে হাত না ধুয়ে ও মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে মাগুরার স্বনামধন্য বরফির খাবার।মঙ্গলবার ২৫ মার্চ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিস ও মাগুরা সদর থানা পুলিশের যৌথ টিম কর্তৃক সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক অভিযান পরিচালিত হয়। বেলা ১২.৩০টা থেকে ৩.০০ টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনার কাজ চলে। উক্ত অভিযানে পারনান্দুয়ালী বাসস্ট্যান্ডে মেসার্স বরফি নামক প্রতিষ্ঠানের কারখানায় তদারকিতে দেখা যায় নানা অনিয়ম। সেখানে বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাদানে তৈরি হচ্ছে খাবার। কারখানার ভিতরে ফ্রিজ, র্যাক ও তৈরি স্থান হতে এসমস্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাদান পাওয়া যায়। এছাড়া যত্রতত্র অস্বাস্থ্যকরভাবে খাদ্যদ্রব্য খোলা রাখা রাখতে দেখা গেছে, কর্মচারীদের নাই কোন স্বাস্থ্যবিধি। ব্যবহৃত টয়লেটে নাই কোন সাবান বা হ্যান্ডওয়াস। কর্মচারীরা টয়লেট শেষে হাত ভালোভাবে না ধুয়েই নোংরা হাতে তৈরি করছে খাবার। এছাড়া খাবারে দেয়া হচ্ছে মেয়াদ বিহীন বিভিন্ন বেনামি উপাদান ও মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ উপাদান হাইড্রোজ। এছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্যের ডিলার পয়েন্টেও পাওয়া যায় মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য যা ভালো পণ্যের সাথে রাখা হয়েছে। এসমস্ত অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক লাবনীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ও ৫১ ধারায় ৫০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব সজল আহম্মেদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস টিম, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জনাব সুমন অধিকারী, ছাত্র প্রতিনিধি মো: নাছিম ও মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি টিম। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে মতামত প্রক করেন মাগুরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ।