
২৩ মার্চ: সরকারি ত্রাণ হিসেবে দরিদ্র জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রবিবার সকাল ৯টা থেকে চাল বিতরণ করা হয়। তবে প্রতিজন উপকারভোগীর ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তারা ৮ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
২১২৪ কেজি চালের হদিস নেই!
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ৪৬,২১০ কেজি চাল বরাদ্দ ছিল। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ১,৪১৬ জন উপকারভোগীর মাঝে ১৪,১৬০ কেজি চাল বিতরণের কথা থাকলেও, বাস্তবে বিতরণকৃত চালের পরিমাণ মাত্র ১২,০৩৬ কেজি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এটি কোনো ভুল নয়, বরং সুপরিকল্পিত দুর্নীতি। এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারের বরাদ্দ অনুযায়ী ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম পাচ্ছি। এত বড় অনিয়ম কি আমরা চুপচাপ মেনে নেব?” অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিতরণকেন্দ্র থেকে বের হয়ে চাল নিয়ে কিছু মানুষ বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ওজন করলে দেখা যায়, ব্যাগপ্রতি ৮ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ৮ কেজি ৬০০ গ্রাম চাল রয়েছে। এতে স্পষ্ট, বরাদ্দের চাল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই কেটে নেওয়া হয়েছে।
এক স্থানীয় নেতা জানান, “বর্তমান বরাদ্দের চাল দিয়ে সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই কিছু অতিরিক্ত মানুষকে কার্ড দিয়েছি। ফলে কিছুটা কম করে চাল দিতে হয়েছে।” বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ২-১০০ গ্রামের হেরফের হতে পারে। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কম দিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পৌরসভার এক কর্মচারী স্বীকার করেছেন, “আমাদের বাস্তবতায় ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত কম থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত অসহায় মানুষ চলে আসে, তাদের দিতেও হয়।” সাংবাদিকদের হুমকি, নিউজ বন্ধের চেষ্টা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা যখন এই অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান করছিলেন, তখন স্থানীয় কিছু নেতা তাদের ওপর চড়াও হন। এক নেতা হুমকির সুরে বলেন, “আগের সরকার আমলেও অনিয়ম হয়েছে, তখন তো কিছু বলেননি, এখন কেন?”
কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং বলেন, “এই নিউজ বন্ধ করতে হবে, নইলে ভালো হবে না!” সাবেক কাউন্সিলর রাজ্জাকের প্রতিবাদ;এ বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর রাজ্জাক বলেন, “এটি স্পষ্ট দুর্নীতি। মানুষের হক মারা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই নিউজ হওয়া দরকার, মানুষকে সোচ্চার হতে হবে।” জনগণের দাবি: অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন! এই অনিয়মে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বরাদ্দের চাল যদি পুরোপুরি উপকারভোগীদের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে সরকারের এই সহায়তা কার্যক্রমের কোনো অর্থ থাকবে না।
তাহলে প্রশ্ন রয়ে গেল— ২,১২৪ কেজি চাল গেল কোথায়?










