আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগ নেতা গোলাপ রসুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগ নেতা গোলাপ রসুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিরোধী দল দমনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আলমডাঙ্গার রামদিয়া এলাকায় একক আধিপত্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাপ রসুল তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় এক নির্বাচনী সমাবেশে গোলাপ রসুল বলেন, "বিএনপির কেউ ধানের শীষে ভোট দিলে তাকে পাকিস্তান বা ভারত বর্ডারে ফেলে দিয়ে আসব, পার ঠ্যাং ভেঙে দেবো। এছাড়াও, নৌকার বাইরে কেউ ভোট দিলে মাটির নিচে পুঁতে ফেলব।"
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোলাপ রসুল ও তার অনুসারীরা ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছেন। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি কৃষক লীগের নেতা হওয়ায় তিনি কৃষকদের উপরও প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করেছেন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "গোলাপ রসুলের লালিত সন্ত্রাসীরা আমাদের ব্যবসা করতে দিচ্ছে না। চাঁদা না দিলে হুমকি দেয়া হয়, দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।"
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সভাপতির পদে থেকে তিনি বারবার নিজের প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাট করেছেন।
বিএনপির চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির এক নেতা বলেন, "গোলাপ রসুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে এলাকাছাড়া করেছেন। আমরা চাই, তার দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।" জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের বলেন, "গোলাপ রসুল শুধু বিএনপি-জামায়াত নয়, সাধারণ জনগণেরও শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার অত্যাচারের কারণে নিরীহ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন নিরব। আমরা চাই, তার অপকর্মের বিচার হোক।"
রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের এই বিতর্কিত নেতা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে।
একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, "তার ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না। সরকারের উচিত তার অপকর্মের তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।" সরকার বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, চুয়াডাঙ্গার প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।