পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আলমডাঙ্গার আনন্দধাম মসজিদের খতিব মাওলানা ইমদাদুল হক জুম্মার নামাজের খুতবায় রমজানের গুরুত্ব, ফজিলত, এতেকাফের তাৎপর্য এবং মানবকল্যাণে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে রোজা পালন, কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ নামাজ, দান-সদকা ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে একজন মুমিন তার ঈমানকে দৃঢ় করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, “রমজান আত্মসংযমের শিক্ষা দেয় এবং আমাদের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতিতে সহায়তা করে। এটি এমন একটি মাস, যেখানে প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়।”
মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এটি নবীজী (সা.)-এর একটি মহান সুন্নাত, যা আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের অনন্য সুযোগ। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এতেকাফে বসে, সে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করতে পারে। এটি গুনাহ মাফের এবং লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের বিশেষ মাধ্যম।”
খতিব আরও বলেন, রমজানের মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ ও সহানুভূতি। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সমাজের সবাই যেন একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, এটি ইসলামের অন্যতম আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “তোমরা তোমাদের প্রতিবেশীদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় রেখো না” (সহিহ মুসলিম)। তিনি মুসল্লিদের এই মাসে বেশি করে যাকাত ও ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্রদের সাহায্য করার আহ্বান জানান।
মাওলানা ইমদাদুল হক বিশেষভাবে গাজার নির্যাতিত মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য আমাদের সাহায্য ও দোয়া করা উচিত। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই’ (সূরা হুজুরাত: ১০)। তাই আমরা যেন তাদের পাশে দাঁড়াই এবং আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য দোয়া করি।”
তিনি মুসল্লিদেরকে পরামর্শ দেন, রমজান মাসে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পথ গ্রহণ করতে। তিনি বলেন, “যারা নিয়মিত নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেন।”
বয়ানের শেষ পর্যায়ে মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন, “রমজান আমাদের জন্য একটি সুযোগ, যাতে আমরা নিজেদের চরিত্র গঠনে মনোযোগী হতে পারি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। আসুন, আমরা সকলে বেশি বেশি ইবাদত করি, গুনাহ থেকে তওবা করি এবং আমাদের চারপাশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি।”
বয়ান শেষে তিনি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন, যেখানে দেশের শান্তি, গাজার মুসলমানদের মুক্তি, এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়।