বরগুনায় ধ'র্ষ'ণের শিকার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান সোমবার (১৭ মার্চ) সকালে নির্যাতিত পরিবারের খোঁজ নিতে তাদের বাড়িতে যান এবং সমবেদনা জানান। উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালীবাড়ি রোড এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ১১ মার্চ রাতে মেয়েটির বাবা মন্টু দাসকে হত্যা করা হয়। সোমবার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে করে বরগুনায় পৌঁছান জামায়াতের আমীর। এরপর তিনি সরাসরি নির্যাতিত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে ধর্ষিতার মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আশ্বাস দেন যে, জামায়াতে ইসলামী পরিবারটির পাশে থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ধর্ষিতার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তাদের বেঁচে থাকা দুই শিশুর দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামী গ্রহণ করেছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সংগঠন বহন করবে।” দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান পরে বরগুনা টাউন হল ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, আমরা একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে অন্যায়-অত্যাচারের স্থান থাকবে না। এ দেশের নিপীড়িত জনগণের পাশে জামায়াত অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।" তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা একটি মজলুম পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, যাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা চাই, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।” পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা মুবিবুল্লাহ হারুন। সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আল মামুন। অন্যান্য বক্তারা বলেন— এডভোকেট মুয়াযযাম হোসাইন হেলাল (কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল): "দেশে বিচারহীনতার কারণে আজ এমন ঘটনা ঘটছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের মদদদাতা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।" ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি): "নির্যাতিত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, ইসলামের বিধানও বটে।" মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাযী (বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য): "এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে, দেশে দুর্বল জনগোষ্ঠীর কোনো নিরাপত্তা নেই।" অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (বরিশাল মহানগরী আমীর): "আমরা চাই, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক এবং ধর্ষণ-হত্যার মতো ঘটনা বন্ধ হোক।" ডা. সুলতান আহমেদ (জামায়াত নেতা): "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাত ধরেই এই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।"