
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত এক সহকারী ভূমি কর্মকর্তার ভোগদখলীয় জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও এক সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী আনিসুল হক, যিনি অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল হক জানান, তিনি ২০১৮ সালে পীরগঞ্জ পৌর শহরের মিত্রবাটী মৌজার ১৪ নম্বর খতিয়ানের ৪৩৬ নম্বর দাগের সাড়ে ৪২ শতক জমি তার স্ত্রী খালেদা পারভীনের নামে ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে তার স্ত্রী ওই জমি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শাহাজান আলী ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মির্জামুল হকের কাছে বিক্রি করেন এবং তারা নিজেদের নামে খারিজ করিয়ে নেন। তবে সম্প্রতি মিত্রবাটী এলাকার মিন্টু নামে এক ব্যক্তির উসকানিতে শাহাজান আলী ও মির্জামুল হকসহ কয়েকজন আনিসুল হকের অপর একটি জমি, মিত্রবাটী মৌজার ১৯ নম্বর খতিয়ানের ৪৩৭ নম্বর দাগের সাড়ে ৩৫ শতক ভূমি, জোরপূর্বক দখল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্তরা প্রাচীর ভেঙে বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি ঘিরে ফেলেন। আনিসুল হক ও তার পরিবার বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হলেও এখনও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান আনিসুল হক।
অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শাহাজান আলী বলেন, “আনিসুল হক আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে আমাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। তাই আমরা তার অন্য জমি দখল করেছি।”
এদিকে, সাবেক কাউন্সিলর মির্জামুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কারও জমি দখল করিনি। আমাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।” পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, “উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”










