
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী আজিজুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোঃ মিনারুল ইসলাম মিনারকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে আসাননগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) সঞ্জিত সাহা সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দুই মাসেও ধরা পড়েনি প্রধান আসামি মিনার
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ আগস্ট চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার গোবিন্দপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী আজিজুল হককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগস্ট তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের পরিবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় মোট তিনজনকে আসামি করা হয়— জাহাঙ্গীর, সোহেল ও মিনার। পুলিশ প্রথমে জাহাঙ্গীর ও সোহেলকে গ্রেফতার করে, তবে প্রধান আসামি মিনার দুই মাস ধরে পলাতক ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কী ঘটেছিল সেদিন?
নিহত আজিজুলের ছেলে নাজমুস সাকিব জানান, ৭ আগস্ট বিকেলে আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের সাদাব্রিজ সংলগ্ন তার চাচা পাপ্পু হোসেনের “আশা ট্রেডার্স” নামের ইলেকট্রনিক্স দোকানে দরজার কবজা ফেরত দেওয়া নিয়ে সবুজ ও মোস্তাকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় কমিশনার রাজ্জাক দুই পক্ষকে আলোচনার জন্য দোকানের সামনে বসান। কিন্তু আলোচনার মাঝেই সবুজ ও মোস্তাকের সহযোগীরা—জাহাঙ্গীর, সোহেল ও মিনার—পাপ্পুকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। বাধা দিতে গেলে আজিজুল হক রামদার আঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরিবারের দাবি: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
সাকিব বলেন, “আমার বাবা একজন নিরীহ ব্যবসায়ী ছিলেন। কোনও অপরাধ ছাড়াই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই, জাহাঙ্গীর, সোহেল ও মিনারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। পুলিশ যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে।”
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মিনারকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত আরও জোরদার হবে এবং বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।










