মাহে রমজান: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অপার বারিধারা”

আহলান সাহলান মাহে রমজান! খোশ আমদেদ মাহে রমজান! মাহে রমজান মুসলিম জাতির জন্য এক অপার রহমত ও বরকতের মাস। এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা করতে বিভিন্ন সংগঠন দিনের বেলা হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

রমজানুল মোবারক তিনটি ভাগে বিভক্ত—প্রথম ১০ দিন রহমত, পরবর্তী ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন নাজাত বা মুক্তির জন্য নির্ধারিত। এই সময়ে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত বর্ষিত হতে থাকে, যা মুমিন বান্দাদের জন্য এক মহাসুযোগ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের সামনে রমজান মাস হাজির। এটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ মাস। এ মাসের রোজা আল্লাহ তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। এ মাসে রহমতের দরজাগুলো উন্মুক্ত হয়ে যায়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বড় বড় শয়তানকে বন্দি করা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতই হতভাগা।”

রহমতের মাস মাহে রমজান

রমজান মাস মানবজাতির কল্যাণের মাস। এই মাসে অধিক পরিমাণে কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির, দোয়া-দরুদ, তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত অর্জন করা যায়। রোজা পালনের মধ্য দিয়ে মুমিন বান্দারা আত্মিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাই আল্লাহ রোজাদারদের জন্য রহমতের দরজা অবারিত করে দেন।

রমজানে রোজাদার আল্লাহর কাছে যা চাইবে, তিনি তা প্রদান করবেন। আল্লাহর কাছে চাওয়ার ক্ষেত্রে কুণ্ঠিত হওয়া উচিত নয়, কারণ আল্লাহ চান যে বান্দারা তাঁর কাছে প্রার্থনা করুক।

আল্লাহর রহমতের প্রয়োজনীয়তা

আমরা সবাই আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের তাঁর রহমতের প্রয়োজন। আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত ছাড়া কেউ সফল হতে পারে না। মাহে রমজান আমাদের জন্য আল্লাহর রহমত লাভের অনন্য সুযোগ এনে দেয়। যারা এই সুযোগ কাজে লাগাবে, তারা সফল হবে। আর যারা এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হবে, তারা প্রকৃতই হতভাগা। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানে তার গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার চেয়ে হতভাগা আর কেউ নেই।”

দান-সদকার ফজিলত

হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানে এক টাকা দান করলে ৭০ গুণ নেকি পাওয়া যায়। তাই আমাদের উচিত এই পবিত্র মাসে অধিক দান-সদকা করা, ফিতরা প্রদান করা এবং অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

রমজান মাস যেন আমাদের মানব সমাজের মধ্যে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং জান্নাতের চাবি হয়ে আমাদের জন্য রহমতের বারিধারা নিয়ে আসে, এটাই আমাদের কামনা। আমিন।

 

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031