
এইচ এম এরশাদ কুয়েত প্রতিনিধি; কুয়েতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিন হলো ২৫শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় দিবস এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারি মুক্তি দিবস। প্রতি বছর এ দুটি দিন দেশজুড়ে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। এবছরও কুয়েতজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনগুলো পালন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন দেশটির নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা।
আলোর ঝলকানিতে উদযাপন
জাতীয় ও মুক্তি দিবস উপলক্ষে কুয়েতের বিভিন্ন শহর, রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। বিশেষ করে কুয়েত টাওয়ার, মুক্তি টাওয়ার, গালফ রোড এবং অন্যান্য প্রধান স্থাপনাগুলো রঙিন আলোয় সজ্জিত হয়, যা পুরো শহরজুড়ে এক উৎসবের আবহ তৈরি করে।
কুচকাওয়াজ ও সামরিক মহড়া
২৫শে ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানী কুয়েত সিটিতে কুচকাওয়াজ ও সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়, যেখানে কুয়েতের সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী অংশগ্রহণ করে। এসময় কুয়েতের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জাতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশপ্রেমের আবেগ
দুই দিনের এই উদযাপন উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রদর্শিত হয়। কুয়েতের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা দেশপ্রেমের অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে।
আতশবাজি প্রদর্শনী ও আনন্দ উৎসব
প্রতিবছরের মতো এবারও ২৫শে ফেব্রুয়ারির রাতে কুয়েতের মারিনা বিচ, গালফ রোড ও বিভিন্ন প্রধান স্থানে বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনী হয়। হাজারো মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করতে সমবেত হন, যা এক চমৎকার মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণ
কুয়েতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরাও এই উদযাপনের অংশ হন। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, মিসরসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা কুয়েতের সঙ্গে ঐক্য প্রকাশ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রবাসীদের অনেকেই সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, যেখানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, খাবার বিতরণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
২৬শে ফেব্রুয়ারি: মুক্তি দিবসের বিশেষ তাৎপর্য
১৯৯১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি কুয়েত ইরাকি আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই দিনটি স্মরণে বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কুয়েতিরা এই দিনে তাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য শহীদ হওয়া বীর সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উৎসবমুখর পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা,,,
জাতীয় ও মুক্তি দিবস উপলক্ষে পুরো কুয়েতজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়, যাতে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন।
উপসংহার,,,
২৫শে ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি কুয়েতের জনগণের জন্য শুধু দুটি দিন নয়, বরং তাদের ঐক্য, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার প্রতীক। এবারের উদযাপনে দেশপ্রেমের চেতনা ও ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে এক বর্ণিল উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল, যা কুয়েতের গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।










