
মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে: আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন, ২৪ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টায় প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব শেখ মেহেদী ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ ইমরুল কায়েস, জেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ দিলআরা চৌধুরী, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ মাসুদুর রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়াউল হক।
প্রথম দিনে নবীন বরণ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অতিথিরা সফলতার জন্য পরামর্শ দেন এবং তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন।
দ্বিতীয় দিন, ২৫ ফেব্রুয়ারি, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, মেডেল ও সার্টিফিকেট তুলে দেন এবং শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের প্রশংসা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে শুধু ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, তাকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিতেও সমৃদ্ধ হতে হবে।”জেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ দিলআরা চৌধুরী বলেন, “আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে গুণগত শিক্ষা দিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।”
বিদায়ী ছাত্রীদের জন্য এই অনুষ্ঠানটি ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। তারা তাদের বিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং স্মৃতিচারণা করেছে।নাজমা খাতুন (এসএসসি পরীক্ষার্থী)”এই বিদ্যালয় আমাকে শুধু বইয়ের জ্ঞানই দেয়নি, দিয়েছে নৈতিক শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাস। শিক্ষকদের স্নেহ-ভালোবাসা ও বন্ধুদের সঙ্গ খুব মিস করবো। ভবিষ্যতে যদি বড় কিছু করতে পারি, সেটার কৃতিত্ব আমার এই বিদ্যালয়কেই দেবো।”
ফারহানা ইসলাম (এসএসসি পরীক্ষার্থী) “বিদ্যালয়ের প্রতিটি দিন আমার কাছে বিশেষ ছিল। সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিবেশ—সব মিলিয়ে এক অসাধারণ সময় কাটিয়েছি। আজ বিদায় নিতে হচ্ছে, মনটা ভারী হয়ে যাচ্ছে। তবে আমি প্রতিজ্ঞা করছি, এই বিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে নিয়ে যাবো।” অনুষ্ঠানে বিদায়ী ছাত্রীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শিক্ষকরাও তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং বিদায়ী উপহার তুলে দেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের এই শিক্ষা ও স্মৃতি ভবিষ্যতে পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও আনন্দমুখর। নবীনদের জন্য এটি ছিল নতুন এক যাত্রার সূচনা, আর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিদায়বেলায় এক আবেগঘন মুহূর্ত।










