সাকিব আহসান ; শীতের বিদায় ঘণ্টা বাজতেই প্রকৃতিতে লেগেছে ঋতুর পরিবর্তনের ছোঁয়া। জারুল, হিজল, সোনালু গাছে যে রঙিন পাঁপড়ির সমারোহ ছিল, এখন তা ঝরে পড়ে গাছগুলোকে যেন এক নিঃসঙ্গ রূপ দিয়েছে। পাতা-হীন গাছের ডালপালা দেখে মনে হয় প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে পুনর্জন্মের অপেক্ষায় রয়েছে।পীরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে সাগুনী শালবন পর্যন্ত বিস্তৃত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন এক অপার মুগ্ধতা ছড়িয়ে রেখেছে। শহর থেকে রেলসেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ, যেখানে দু’পাশে সবুজের সমারোহ থাকলেও ঋতুর পরিবর্তনে তা কিছুটা বিবর্ণ। শালবনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কৃ্ষ্ণচূড়া, হিজল গাছগুলোও তাদের নতুন পাতা গজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাগুনীর প্রধান ব্রিজ থেকে কয়েকশ’ মিটার দূরে আরেকটি ব্রিজ রয়েছে, যার মাঝে থাকা সড়কটি যেন প্রকৃতির আঁকা এক অপরূপ চিত্রকর্ম। এই পথের দু’পাশে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে লাগানো হয়েছে কৃ্ষ্ণচূড়া, হিজলসহ নানা গাছ, যা বসন্ত এলে লালে-নীলে রাঙিয়ে দেবে চারপাশ। সাগুনী শালবন শুধু পীরগঞ্জের নয়, আশপাশের উপজেলার মানুষের কাছেও এক প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। এর গভীর সবুজে মোড়ানো পথ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক শান্তির আবাস। ঋতু বদলের এই সময়ে শালবনের পত্রহীন গাছের সারি যেন জানান দিচ্ছে—শীঘ্রই আসবে নবজীবনের বার্তা, প্রকৃতিতে ফিরে আসবে নতুন প্রাণের স্পন্দন।