আলমডাঙ্গার মায়ারও ইচ্ছা করে স্কুলে পড়তে কিন্তু দারিদ্রতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় বড় বাধা
Spread the love

“নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায়, তাদের আবার বিরিয়ানি কোরমা পোলাও এর স্বপ্ন আকাশ কুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়, তেমনি দরিদ্র পিতা আলম হোসেনের মেয়ে মায়ার ও প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও স্কুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।
আলমডাঙ্গার মায়ারও ইচ্ছা করে স্কুলে পড়তে কিন্তু দারিদ্রতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।
উপজেলার পৌর এলাকার এরশাদপুর গোরস্থান পাড়ায় দিনমজুর খেটে খাওয়া আলম হোসেনের ঘরে রয়েছে দুটি কন্যা সন্তান মায়া(৬) ও দিয়া (৪)। প্রথম কন্যা সন্তান মায়ার বয়স প্রায় ৬ বছর। মানসিকভাবে দৃঢ়চেতা ছোট্ট মায়া র বুদ্ধি ভিত্তিক প্রচন্ড প্রখরতা থাকলেও শারীরিক ভাবে দুটি পা বিকলাঙ্গ ও পঙ্গু। তাই স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারেনা। তাকে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে হয়। সুমিষ্ট কণ্ঠস্বরের কারণে হামদ নাত গেয়ে ইতিমধ্যে পাড়া-প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাই মায়ার প্রতি অনেক মায়া বেড়েছে বলে জানান প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী অনেকেই।
মা রিমা খাতুন বলেন, পার্শ্ববর্তী স্কুল প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে হওয়ায় সংসারের কাজ সামলে মায়াকে স্কুলে ভর্তি করে, প্রতিদিন আনা নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না। আবর ভ্যানযোগে স্কুলে যাওয়ার ভাড়া জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ওদিকে বাবাও খুব সকালে কাজে বেরিয়ে পড়েন আসেন সেই সন্ধ্যা রাতে।
এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর এরশাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল ইসলাম সৈকত জানান, “স্কুল বিমুখ শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলমুখী করার রুটিন ওয়ার্ক করতে গিয়ে মায়াকে খুঁজে পান তারা। মায়া র পড়ার প্রতি আগ্রহ ও গজলের কন্ঠ এত সুমিষ্ট, যে কেউই তার প্রতিভার প্রতি আকৃষ্ট হবে। সমাজের বিত্তবানরা যদি তার একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে হয়তো প্রতিভাবান শিশুটির জীবন আলোকিত হবে। কে জানে এই শিশুটি হয়তো একদিন সমাজ ও দেশের জন্য অনেক কিছু করতেও পারে”।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ডসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়ে আশ্বস্ততা দেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31