
আলমডাঙ্গা কুষ্টিয়া প্রধান সড়কে জগন্নাথপুর শ্রীরামপুর নামক স্থানে মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় রাস্তায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে জানা যায়।গত ২৭ শে জানুয়ারি সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে দুইটার মধ্যে ফাঁকা মাঠের মধ্যে হাইওয়ের উপরে গাছ ফেলে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়।
প্রত্যপ্রদর্শীরা জানান আলমডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়াগামী, কুষ্টিয়া থেকে আলমডাঙ্গাগামী বাস মাইক্রোবাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স এমনকি লাশবাহী গাড়ি ও রাস্তায় ঠেকিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র -রামদা ডাসা, হাসুয়াসহ সশস্ত্র ডাকাত দল মুখ বাধা অবস্থায় টাকা মোবাইল ফোন সহ সঙ্গে থাকা ব্যাগ কাপড়-চোপড় মহিলাদের স্বর্ণালংকার লুণ্ঠন করে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান তাদের অনেকের কাছ থেকে টাকা মালামাল শুধু লুটই করেনি, অনেককে বেধড়ক মারধর করেছে।
উপজেলার ডাউকি গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের স্ত্রী সাহারবাণু (৬৫) হঠাৎ স্টোক করলে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়। ঐ রাতেই লাশবাহী গাড়িটি যখন কুষ্টিয়া থেকে আলমডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন লাশবাহী গাড়িটিসহ পরিবারের সদস্যরা এই ডাকাতদের কবলে পড়ে বলে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
গাড়িতে লাশ আছে জেনেও ডাকাত দল তাদেরকে ছাড়ে না।
বরং তাদের গাড়িতেও লুণ্ঠন করার জন্য উপস্থিত সকলকে জোরাজুরি করে।
এর মধ্যে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছুড়লে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল পালিয়ে যায় বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোন সুনিষ্ঠ অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে।এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনীতির কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার চতুর্পাশে- সাতকাপাট, জামজামি যমুনার মাঠ, কুষ্টিয়া রোডে জগনাথপুর শ্রীরামপুর মাঠ, চুয়াডাঙ্গাগামী বন্ডবিলমাঠসহ এইসব হাইওয়েতে সন্ধ্যার পর থেকে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরী প্রয়োজনে ও চিকিৎসা সেবার জন্য নিজ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা শহরে রাতে যাওয়াটা, মানুষের জন্য ভয়াবহ মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।
এভাবে অপরাধীদের দৌরাত্ম বাড়তে থাকলে খুব শীঘ্রই দেশের জনগণের জীবনযাত্রা ভয়াবহ সংকটে পড়বে বলে মনে করেন এইসব নাগরিকরা।










