মাসুদ চৌধুরী সাঈদ, মানিকগঞ্জ: দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না রাজার। মোস্ট ওয়ান্টেড মানিকগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক রাজা গ্রেপ্তার হলেন পুলিশের হাতে। ২২ জানুয়ারি বুধবার রাত ১১ ঘটিকায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্বৈরাচার জাহেলী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই তিনি ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে ধানমন্ডি এলাকায় তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেপ্তার করে মানিকগঞ্জ পুলিশ। এই রাজা সব রকমের সন্ত্রাসী অপকর্মে লিপ্ত থাকতেন বলে জানান অনেকই। তাঁর একটি সন্ত্রাসী রাজ্য ছিলো। আওয়ামী জাহেলী লীগ খুনি হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য প্রতি জেলায় এইসব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জেলা নিয়ন্ত্রণ করতো এই স্বৈরাচার সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জে রাজা, আপেল, বাশারের মত আরো অনেক সন্ত্রাসীরা অবৈধ বালু-মাটি ব্যবসা থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি, চাকুরী বানিজ্য নানারকম অপকর্ম করে চলে যান কোটি কোটি বনে। তাদের অস্তিত্ব ছিলো আঁধারে। আর এখন এক নামে জেলাবাসী চেনে ধনকুবের প্রথম সারিতে। আরো অনেক জাহেলী সন্ত্রাসীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গাঢাকা দিয়ে আছে। সেই সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন তথ্য ও সহযোগীতা করছে ওদের পালিত কো-নেতারা। এই কো-নেতারা বিভিন্ন ছত্রছায়ায় এলাকায় গা ভাসিয়ে বীরদর্পে চলছে। ঐ কো-নেতাদের কাছে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীরা কোথায় আছে জানা যাবে বলে জানান সচেতন মহল। গ্রেপ্তারকৃত রাজার বিরুদ্ধে গত ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে এই রাজার নেতৃত্বে কমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা, নাশকতা, জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের তিনটি মামলা রয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ আমান জানান, গ্রেপ্তারের পর রাজাকে মানিকগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাখিবো নিরাপথ, দেখাবো আলোর পথ, উক্তিটি সামনে রেখে কিংস্টার কিশোর গ্যাং লিডার রাজা মানিকগঞ্জ শ্রীঘরে বন্দি।