
শফিকুল ইসলাম আলিফ: দেশে ফেরার পর একের পর এক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। কক্সবাজার, যশোর ও সিলেটে মাহফিলের পর এবার তিনি আসছেন লালমনিরহাট।আগামীকাল শনিবার (১৮ জানুয়ারি) যোহরের নামাজের পর লালমনিরহাটের সোহরাওয়ার্দী মাঠে তিনি বয়ান করবেন। মাহফিলকে ঘিরে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজকদের ধারণা, এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। মাহফিলের সফল আয়োজনের জন্য ইসলামিক সোসাইটি লালমনিরহাট চারটি মাঠ প্রস্তুত করছে। মূল মঞ্চ থাকবে জেলার সবচেয়ে বড় সোহরাওয়ার্দী মাঠ। এছাড়া কালেক্টরেট মাঠ, পিসি স্কুল মাঠ এবং নারীদের জন্য জেলা স্টেডিয়াম মাঠ আলাদাভাবে সাজানো হচ্ছে। প্রতিটি মাঠে প্রজেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মাহফিল ঘিরে লালমনিরহাটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। বিপুলসংখ্যক আনসার, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবক দল নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন, ইসলামিক অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম সাহেব। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক যুগ পর লালমনিরহাটের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিশ্ববরেণ্য কোনো মোফাসির। এর আগে সর্বশেষ ২৮/২৯ বছর আগে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাহফিল করেন বিশ্বনন্দিত ইসলামি বক্তা ও জামায়াত নেতা প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি। তাই দীর্ঘদিন পর এমন বিশ্ববরেণ্য স্কলারের আগমন ঘিরে নবোদ্যমে জেগে উঠেছে ইসলাম প্রিয় মানুষ। এ স্কলারের কথা শুনতে রংপুর বিভাগসহ সারা দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি আসবেন বলে প্রস্তুত রয়েছে জেলার সকল আবাসিক হোটেল। ঐতিহাসিক এ মাহফিল সফল করতে ইতোমধ্যে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ করেছেন আয়োজকরা। এ ছাড়া সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনের মাহফিলে ঘটে যাওয়া চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে যাবে মাহফিল ও তার আশপাশের এলাকা। মাহফিলের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ সেবক আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম বলেন, মাহফিল সফল করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে মাহফিলের মাঠগুলোতে। পুরো শহরে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে বক্তা ও অতিথিগণের বক্তব্য শুনতে পারবে মানুষ। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে আনসার, পুলিশ র্যাবসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকবে প্রায় ৫ হাজার। নারীদের দামি অলংকার সঙ্গে না আনতে আহ্বান জানাচ্ছি।










