অন্যায় প্রতিরোধ ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মাগুরার জনগণ সব সময় সোচ্চার ও বিপ্লবী। যার নিদর্শন ও প্রমাণ দেশবাসী বহুবার দেখেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।সেই সময় বাংলাদেশের অনেক জেলার চেয়ে হানাদারদের রুখতে এগিয়ে ছিলো মাগুরা জেলা। যদিও মাগুরা তখন সম্পূর্ণ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মাগুরা তখন মহকুমা নামে প্রতিষ্ঠিত ছিলো। সেই সময়ে মাগুরার বিপ্লবী জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনী খুব অল্প সময়েই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। এর ফলে ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর মাগুরা জেলা হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয়েছিলো।আর এই ছোট্ট জেলাটি সেদিন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থেকে নিজেদের বিপ্লবী জেলা হিসেবে জাতীর সামনে পরিচিতি ঘটাতে স্বক্ষম হয়।
১৯৯৬ সালে মাগুরার উপ - নির্বাচনে যখন তৎকালীন সরকার ভোটে কারচুপি করে বিতর্কিত ভাবে জয় লাভ করে ঠিক তখনই সেই ভোটের কারচুপির ইসুতে পুরো মাগুরা বাসী ফুঁসে ওঠে। যার ফলশ্রুতিতে সেই ইসুকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তীত আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটাতে স্বক্ষম হয়। এখানেই শেষ নয়,বিগত খুনী অবৈধ হাসিনা সরকার যখন স্বৈরাচারীর মাত্র অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে এক দলীয় শাসন ব্যবস্হা কায়েম করার মাধ্যমে জাতীর ঘাড়ে চেপে বসেছিলো, ঠিক সেই সময় মাগুরার আপামর ছাত্রজনতা আবার দূূর্বার বেগে গর্জে ওঠে। তারা ঢাকার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এক সাথে সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট মাগুরা জেলার সকল মঙ্লকামী ছাত্রজনতা একত্রিত হয়ে তৎকালীন স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের অবৈধ কাজের প্রতিবাদ সহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে।
এ সময় তাদের প্রতিরোধের জন্য সরকারি পুলিশ বাহিনী সহ দলীয় ক্যাডাররা অস্ত্র উচিয়ে মহড়া দিয়ে নানা ধরনের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে।কিন্তু মাগুরার ছাত্রজনতা সেই ভয়ভীতিকে কোন রকম তোয়াক্কা না করে দূর্বার গতিতে সরকার পতনের আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে। তারা তখন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী ও ভায়েনা মোড় নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে।এসময় মাগুরার পুলিশ প্রশাসন সরকারি দলের ক্যাডারদের প্রটেকশনের মাধ্যমে তাদেরকে দিয়ে ছাত্র জনতার মিছিলে গুলি চালাতে সহায়তা করে।সেখানে পুলিশের পক্ষে মাগুরা জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার মোঃ মশিউদ্দৌলা এবং সরকার দলীয় ক্যাডার বাহিনীর সাথে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের পিতা মাশরুর রেজা কুটিল নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যার বিভিন্ন ধরনের ফুটেজ বিভিন্ন মিডিয়াতে আমরা দেখেছি। এ সময় সরকার দলীয় ক্যাডার বাহিনীর উপর্যপূরী গুলি বর্ষনে মাগুরা পারনান্দুয়ালী ব্রীজের উপর গুলিতে প্রাণ হারায় রাব্বী নামে এক ছাত্র নেতা।ঐ ছাত্র নেতা সেখানে নিহত হলেও মাগুরার বিপ্লবী জনগোষ্ঠীকে তখন সরকারি প্রশাসন ও ক্যাডার বাহিনী কোন ভাবেই দমাতে পরেনি।শেষ পর্যন্ত মাগুরার বিপ্লবী বাহিনী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মাগুরাকে দখল করে খুনী হাসিনার প্রশাসন সহ ক্যাডার বাহিনীকে পরাজিত করে। এর ফলে মাগুরাবাসী আরেকবার নিজেদেরকে বিপ্লবী হিসেবে সমগ্র দেশকে জানিয়ে দেয় যে, মাগুরার জনগন কখনো অন্যায় মেনে নেবে না।অন্যায়ের বিরুদ্ধে এরা সর্বদা সোচ্চার। এরা প্রত্যেকেই এক একজন বিপ্লবী।
গত ৫ আগষ্ট নতুন স্বাধীনতা অর্জনে সারাদেশে মাগুরার মোট ১০ জনকে জীবন দিতে হয়েছে। এই ১০ জনকে মাগুরাবাসী বীর উপাধিতে ভূষিত করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যে সকল পরিবার তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তারা সকলেই বুকে কান্না চেপে হাসি মুখে বলেছেন আমরা আমাদের প্রিয় সন্তান হারালেও জাতি পেয়েছে স্বাধীনতা। তাইতো মাগুরাবাসীও বুকে কান্না চাপিয়ে হাসি মুখে বলছে আমরা আজ স্বাধীন। আমরা এখন পেয়েছি মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা এখন রক্ষা করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।কেননা স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।