ঠান্ডায় কাঁপছে কুড়িগ্রামের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে জনদুর্ভোগ বাড়ছে
Spread the love

রুহুল আমিন রুকু : কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘন্টায় হুল ফোটানো কনকনে ঠান্ডা আর উত্তরের সিরসিরি হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘরের বাহিরে থাকতেই পারছে না। উত্তর জনপদ এখন কার্যতঃ হিমঘরে পরিণত হয়েছে। ১১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং বিকেলে জানা গেছে ২৪ ঘন্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ নিম্নগামী থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। তীব্র ঠান্ডার কারনে কৃষিতে বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে কাজ করতে না পারায় কৃষি শ্রমিকরা খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে ।
জেলার হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো থেকেও শীত জনিত কারনে রোগী ভর্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা শীত জনিত রোগে। বৃদ্ধদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।এদিকে ঘনকুয়াশা ভেদ করে দিনের ১২ টা ১টার দিকে সূর্য কিছু ক্ষনের জন্য দেখা দিলেও উত্তাপ নেই। এ অবস্থায় উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও দিনের বেলাতে আগুনের কুন্ডলী জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে ছিন্নমূল মানুষ। বিকেল ৫ থেকে ৬ টার মধ্যে রাস্তা, বাজার ঘাট, ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে যা পরদিন সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা ১টা পর্যন্ত থাকছে । ফলে হাট বাজার ও রাস্তা ঘাটে জন সমাগম কমে গেছে। ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং বিকেলে
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঠান্ডার পারদ নিম্নগামী হওয়ায় অস্বাভাবিক কনকনে ঠান্ডার মুখে পড়েছে। মধ্যবিত্ত,নিম্নমধ্যবিত্ত ছিন্নমূল পরিবারের মানুষজন। গরম কাপড়ের অভাবে চরম দুর্ভোগের মুখে রয়েছে, ছিন্নমূল, হতদরিদ্র পারিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতের শুরুতে কিছু কম্বল বিতরণ করা হলেও তা অনেকের ভাগ্যে জোটেনি। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক আফতাব হোসেন জানান, এত ঠান্ডা ঘরের ভেতরে থাকায় এখন আমাদের কঠিন হয়ে পড়েছে, এ অবস্থায় ঠান্ডায় পানিতে নেমে চারা লাগালে মরে যাবো।
উলিপুর উপজেলার নদ-নদী বাহিত মাস্টার পাড়া গ্রামের মোক্তার আলী জানান, কয়েকদিন ধরে রাতে দিনে সমান তালে ঠান্ডা পড়ছে। এখন যে অবস্থা তাতে বাহিরে বের হওয়ায় মুশকিল। গরম কাপড় নেই যে গায়ে দিয়ে মাঠে বের হবো। বেশ কষ্টে আছি। এরকম দুর্ভোগের মুখে রয়েছে অনেকেই। এখন যেন উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গোটা কুড়িগ্রাম জেলা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31