মোঃ তরিকুল ইসলাম : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী সমুদ্র স্নানে অংশগ্রহণ করেছেন। ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ পুণ্যস্নানে ভক্তরা নিজেদের পাপ মোচনের বিশ্বাসে সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসান। স্নানের আগে ভক্তরা মোমবাতি, ধূপ, বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর প্রভৃতি সামগ্রী অর্পণ করেন। সৈকতজুড়ে উলুধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেক ভক্ত মাথা ন্যাড়া করে প্রায়শ্চিত্ত করেন এবং পিণ্ডদানও সম্পন্ন করেন। এর আগে রাতভর শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজা-অর্চনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তনে অংশ নেন ভক্তরা। ভক্তেরা জানান, “প্রতি বছর আমরা রাস পূর্ণিমার এই উৎসবে অংশ নিই। এবছর পরিবেশ অনেক সুন্দর ও সুশৃঙ্খল। এখানে এসে মনে হয়, সকল ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।" স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজরকাড়া। ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, “৪ শতাধিক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা সবসময় সতর্ক ছিলাম।”
রাস পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য বলেন, “কুয়াকাটা সৈকতে প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাগরস্নান আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এ আচার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সম্পন্ন হয়েছে।”
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য নিহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমাদের মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদ রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এ সুন্দর উদাহরণ আমাদের ঐতিহ্যের ধারক।”
সন্ধ্যায় সমুদ্র স্নানের মাধ্যমে এ বছরের রাস উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।