
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গজাড়িয়া মাঠে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী তুষার আহম্মেদ সবুজ হত্যাকাণ্ডের মূলরহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।ঘটনার সাথে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত তুষার আহম্মেদ সবুজ গত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। রাত ৯টার দিকে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়, তারপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে গজাড়িয়া মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা মাঠে নামে। অবশেষে ১৪ নভেম্বর ভোরে আলমডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর প্রধান আসামি সাগর আলী হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যার উদ্দেশ্য ও ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেছেন পুলিশ। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে একটি পুরোনো ডিসকভার মোটরসাইকেল ও নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।শুক্রবার সকাল ১০টায় আলমডাঙ্গা থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।
গ্রেফতাররা হলেন- আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামের নতুন বাসস্ট্যান্ড পাড়ার সাহাদ আলীর ছেলে সাগর আলী (২২), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪৬),বকসিপুর গ্রামের লাল্টু মিয়ার ছেলে নাজমুল হক পাপ্পু(২৮)।
জহুরুল ইসলাম আলমডাঙ্গা ফুড গোডাউনের নৈশ্য প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদে মাজু গ্রামের জয়নুল আবেদীনের ছেলে তুষার আহমেদ সবুজ পুরাতন মোটরসাইকেলের ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাগর আলী মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে তুসার আহম্মেদ সবুজকে ডাকেন। কৌশলে সাগর আলী সবুজকে মোটরসাইকেলে করে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের গজারিয়া মাঠে একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অপেক্ষা করছিল জহুরুল ইসলামসহ তার কয়েকজন সঙ্গী।
জহুরুল ও সাগর আলী জানতে পারে সবুজের কাছে নগদ এক লাখ টাকা আছে।টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য জহুরুল ইসলাম তাকে (সবুজকে) মারধর করলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তার শরীরের উপর মোটরসাইকেল রেখে তেলের লাইন খুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে নিহতের পিতা জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।










