তৌহিদ : মাগুরার ভায়েনার মোড়ে রোকেয়া ক্লিনিকে ডাক্তার রাকিবুল ইসলামের অপচিকিৎসায় সমিয়া (২০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সামিয়া মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পানিঘাটা গ্রামের ভিকু মোল্লার মেয়ে। সামিয়ার পিতা ভিকু মোল্লা জানান সোমবার ৪ নভেম্বর সকালে তার মেয়েকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য মাগুরার ভায়েনা মোড়ে রোকেয়া প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরদিন মঙ্গলবার ৫ নভেম্বর সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামিয়াকে সিজারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।সেখানে ডাক্তার রাকিবুল সামিয়ার সিজার করার পর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।পরবর্তীতে সন্তান সুস্থ থাকলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সন্তানের মা সামিয়ার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যায়।রোগীর খারাপ অবস্থা টের পেয়ে ঐদিন রাতে ডাক্তার রাকিবুল এবং ডাক্তার অখিল রঞ্জন মিলে আবার অপারেশন করেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার অপারেশন করার পর রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে সাথে খিচুনি এভাবে চলতে চলতে বুধবার ৬ নভেম্বর রোগী মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও কৌশলে রোগীর স্বজনদের বুঝতে না দিয়ে রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে রোগীর স্বজনরা ফরিদপুর পর্যন্ত গিয়ে বুঝতে পারে যে, রোগী আর বেচে নেই। রোগীর পিতা ভিকু মোল্লা আরো জানান তারা যে ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করাতে চেয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই ডাক্তারকে না দিয়ে অন্য ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করান।এছাড়া অপারেশনের আগে কোন রকম পরীক্ষা -নিরীক্ষা না করিয়ে ১ মাস আগের রিপোর্ট দেখে অপারেশন করেন। রোগীর স্বজনরা বুধবার বিকেলে রোকেয়া হাসপাতালের সামনে এসে হট্টগোল করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে আড়াই লক্ষ টাকার মাধ্যমে গোপনে মিমাংসা করেন।এ বিষয়ে ডাক্তার রাকিবুলের সাথে একাধিকবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।তবে বিষয়টি সিভিল সার্জনের নিকট জিজ্ঞেস করা হলে সিভিল সার্জন মোঃ শামীম কবির জানান বিষয়টি আমি শুনেছি যাচাই -বাছাই করে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিষয়ে ব্যবস্হা নেয়া হবে।