
নুরুজ্জামান খোকন ; পিরোজপুরের কাউখালী সদর ইউনিয়নের গান্ডতা গ্রামের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মুমু আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
অদ্য ১৯অক্টোবর (শনিবার) রাত ১১:৫০ সময়, নানা বাড়িতে আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। মুমু আক্তার (১১) পিতা:- মাসুম মোল্লা, মাতা:-হেলেনা আক্তার কলি, কাউখালী ৩নং সদর ইউনিয়নের গান্ডতা গ্রামে, নানা মোঃ হেমায়েত সরদারের বাড়িতে বসবাস করেন। মুমু মঠবাড়িয়া তুষখালী গ্রামের, মোঃ মাসুম মোল্লার মেয়ে, নিহত মুমু আক্তার কাউখালী গান্ডতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী,গায়ের রং কালো হলেও নম্র,ভদ্র এবং মেধাবী হওয়ায় স্কুলে প্রথম স্থান দখলে ছিল। ঘটনার দিন মুমুর পরিবার মা বলেন, গতকাল শনিবার রাত ১০টার সময় ছোট মেয়ে খুব অসুস্থ হওয়ায়, চিকিৎসার জন্য কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে নিয়ে এসে ভর্তি করেন। রাত ১১:৫০ সময় নানা হেমায়েত সরদার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মুমু ঘুমিয়েছে কিনা খোঁজ খবর নিতে গিয়ে ঘরের দরজায় নক করলে কোন সারা শব্দ না পেয়ে জানালা থেকে দেখতে পান ওরনায় পেঁচানো মেয়ের ঝুলন্ত লাশ। ডাক চিৎকারে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী এসে বিষয়টা দেখে আমাকে সহ কাউখালী থানা পুলিশকে খবর দিলে, টহলরত পুলিশ অফিসার, এসআই মোঃ রাশেদুল ইসলাম খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল গিয়ে, অদ্য ২০ অক্টোবর (রবিবার) রাত ১:০০ সময় ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। সেই সাথে মেয়ের হাতের লেখা একটি চিরকুট খুঁজে পান, যাহার ভাষা এমনই ছিল, দুঃখ কষ্ট অপমানিত মৃত্যুর কারণ।
বিষয়টি নিয়ে পরিবারের কাছে পুলিশ কর্মকর্তা জানতে চাইলে মেয়ের মা বলেন, শনিবার রাতে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় বড় মেয়ে নিহত মুমু মোবাইল চাইলে, মা দিতে অস্বীকার করলে মেয়ে অভিমান করে। তাছাড়া মেয়েটি কালো হওয়ায় স্কুলের অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রী কালোজিরা বলে ডাকলে খুব কষ্ট পেত, চিঠির ভাষায় অভিমানে এক প্রকার আত্মহত্যার মূল কারণ।
এই বিষয়ে কাউখালী থানা পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান হোসেনের কাছে আত্মহত্যার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, উক্ত বিষয়টি আমরা জানতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত লাশ কাউখালী থানায় নিয়ে আসা হয়, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অভিভাবকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি অপমৃত্যুর এজাহারভুক্ত করেছি, চিরকুটের উপর ভিত্তি করে তদন্তে এবং পরবর্তী কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










